বুথফেরত জরিপ
ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, এখন কে হবেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলে গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলে বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্সিট পোল বা ভোট-পরবর্তী জরিপ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট কারও পক্ষেই সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন যেটা কোনো দলই অর্জন করতে পারেনি।
ইসরায়েলের প্রধান তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩ এর জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে। বিদায়ী পার্লামেন্টে তিনি যে জোটের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাতে ৬৮টি আসন ছিল। সেই তুলনায় এবার তার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে তার দল ‘লিকুদ’ একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের বরাতে আল জাজিরার খবরে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসনে জিতেছে। আর সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯টিতে জিতেছে। আরব লিস্ট জিতেছে ১৯টি আসনে।
এ অবস্থায় নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলাফল হিসেবে ইসরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষির পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
তবে ইসরায়েলি রাজনীতি মূলত জোট গঠনের ওপরই নির্ভরশীল। সবচেয়ে বড় দল হওয়াটা এখানে মুখ্য নয় আর নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ এখন অস্পষ্ট।
বিরোধী শিবিরের জন্যও সরকার গঠনের পথটি বেশ জটিল। নেতানিয়াহু-বিরোধী দলগুলো ভোটের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী তারা ৬৮ থেকে ৭০টি আসন অর্জন করেছে। তবে তারা ডানপন্থী, বামপন্থী ও মধ্যপন্থী-এমনকি ইহুদি ও আরব দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছে।
আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’ দলটি বিরোধী বৃহত্তম দল। তবে ক্ষমতায় যেতে হলে তাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের সব নেতা সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত নন। তবে, এক্সিট পোল কেবল একটি ধাপ মাত্র। তাই ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন বলেন, বুথফেরত জরিপগুলোয় নেতানিয়াহুর জোটের ‘স্পষ্ট দুর্বলতা’ উঠে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে-কোনোটা বলার সময় এখনও আসেনি।’
এহাব জাবারিন আরও বলেন, ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারে, তবে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।’
যেহেতু এক্সিট পোলগুলোতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ছেন তাই উভয় নেতাই তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা ভোট গণনার রাতটিকে নিজেদের অনুকূলে তুলে ধরার এবং বিজয়ের একটি আখ্যান তৈরির চেষ্টা করেছেন।
ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপটি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের হাতে চলে যাবে। জেরুজালেমে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে হারজোগ পরামর্শ গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যেখানে প্রতিটি নির্বাচিত দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে।
এই সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে, প্রেসিডেন্ট একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। এই প্রার্থী যে সবসময় বৃহত্তম দলের নেতাই হবেন-তা কিন্তু নয়; বরং প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় যিনি ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সক্ষম বলে মনে হবেন, তাকেই তিনি এই দায়িত্ব দেবেন।
সুতরাং ইসরায়েলের নির্বাচনে জয়লাভ মানে কেবল ভোট বা আসন পাওয়া নয়, বরং একটি কার্যকর জোট গঠন করা এবং তা টিকিয়ে রাখাও এর অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা
