দিল্লিতে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ করতে চায় কংগ্রেস, আপত্তি ব্যবসায়ীদের
সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কংগ্রেসের প্রস্তাবিত সমাবেশ ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে পুরোনো দিল্লিসহ রাজধানীর অন্তত ২১টি বড় পাইকারি ও খুচরা বাজারের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই)।
সংগঠনটির দাবি, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎসবের মৌসুমে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম, যানজট এবং সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রেতাদের বাজারে পৌঁছাতে ভোগান্তি হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এ পরিস্থিতিতে সমাবেশটি আগামী ১০ নভেম্বরের পর আয়োজন অথবা বাণিজ্যিক এলাকাগুলো থেকে দূরে অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিটিআই।
এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়েছেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল। চিঠির অনুলিপি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছেও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য খাড়গের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, আগামী ১ নভেম্বর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে এর আগের দিন ৩১ অক্টোবর থেকেই বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। এতে উৎসবের কেনাকাটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিটিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হলে দিল্লিতে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার যানবাহন প্রবেশ করতে পারে। এর মধ্যে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার বাস এবং ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার ছোট যানবাহন, গাড়ি ও অন্যান্য যাত্রীবাহী যান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এত বিপুলসংখ্যক যানবাহনের পার্কিং ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, রামলীলা ময়দানের আশপাশে ২০০টি যানবাহন রাখার মতো অনুমোদিত পার্কিং ব্যবস্থাও নেই।
সমাবেশের কারণে চাঁদনি চক, সদর বাজার, খারি বাওলি, ভাগীরথ প্যালেস, চাওড়ি বাজার, কাশ্মীরি গেট, করোল বাগ, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ, জামা মসজিদ ও লাজপত রায় মার্কেটসহ অন্তত ২১টি বাজারের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিটিআই।
সংগঠনটির ভাষ্য, পুরোনো দিল্লির অনেক গলি মাত্র ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া। এসব সড়কে বড় যানবাহন প্রবেশ করলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি একটি ট্রাক আটকে গেলেও কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন, দোকানে মালামাল সরবরাহ এবং ক্রেতাদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত একটি কর্মসূচির উদাহরণও তুলে ধরেছে সিটিআই। সংগঠনটির দাবি, ওই কর্মসূচিতে তিন থেকে চার হাজার মানুষের সমাগমের কারণে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় তিন হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয় বলে দাবি করেছে তারা। তবে ক্ষতির এ হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
উৎসবের মৌসুমে বাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে সমাবেশের তারিখ পরিবর্তন অথবা বিকল্প স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সিটিআই। এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা।
