এক সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব
সংগৃহীত
সৌদি আরবে আবাসন অনুমতি বা আকামা, শ্রম আইন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাত্র এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ জন প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে ‘গালফ নিউজ’।
গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয় হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে আকামাসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় প্রায় ১ হাজার ৮৮১ জনকে এবং দেশ ছেড়ে পালানোর সময় আরও ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। অবৈধ প্রবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, চাকরি দেওয়া কিংবা যাতায়াতে সহায়তা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ২১ জনকে।
বর্তমানে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি নারী রয়েছেন। এ ছাড়া নিজ দেশের পাসপোর্ট বা ভ্রমণ অনুমতিপত্র সংগ্রহের জন্য ২০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। তবে এবার ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কোন দেশের নাগরিক কতজন, তা স্পষ্ট করে জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের কোনো ধরনের সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় দেওয়া বা কাজের সুযোগ করে দিলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের ঘটনা নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য বিশেষ হটলাইনও চালু করেছে দেশটি।
সূত্র: গালফ নিউজ
