ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৮, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ১০ লাখের বেশি মানুষ
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হলেও এখনো কত মানুষ অন্ধকারে রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলার পর স্থানীয় কর্মকর্তারা হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এ তথ্য জানান। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ১০ লাখের বেশি মানুষের সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের তিনটি জেলায় রুশ হামলায় ৭১ বছর বয়সি এক নারী ও ৫৮ বছর বয়সি এক পুরুষ নিহত হন। আহত হন আরও ১২ জন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে তিনি নিহতের সংখ্যা তিনজন বলে জানিয়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে আরও কয়েক দফা হামলায় অন্তত নয়জন আহত হন বলে কর্মকর্তারা জানান।
এ ছাড়া দোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্মুখসারির শহর ক্রামাতোরস্কে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন।
পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোলিন অঞ্চলে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন। আঞ্চলিক গভর্নর রোমান রোমানিউক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ওই অঞ্চলে প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের মধ্যে এক লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। তবে ভোলিন অঞ্চলের রাজধানী লুৎস্কে অন্তত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিভ্রাট থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শহরটির মেয়র আন্দ্রি রাজুমোভস্কি।
রোমানিউক আরও জানান, দিনভর ওই অঞ্চলে ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল। কোভেল শহরের একটি শুল্ক টার্মিনালে হামলার পর প্রায় ১০টি ট্রাকে আগুন ধরে যায়। শহরটি কিয়েভ থেকে পোল্যান্ডের দিকে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবস্থিত।
এদিকে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে সম্মুখসারির কাছাকাছি সুমি শহর এবং পাশের রিভনে অঞ্চলের অন্তত দুটি শপিং সেন্টারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সুমির জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার প্রকাশ করা ছবিতে একটি শপিং সেন্টারের মেঝেতে রক্তের দাগ এবং ভবনটির ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশপথ দেখা যায়।
রিভনে অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর কোভাল জানান, একটি বড় শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে রিভনে শহর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মেরামতকর্মীরা কাজ করেন। তবে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রাশিয়ার এসব হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণহানির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
