ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্য, ফিলিস্তিনিদের ঘর ছাড়ার নির্দেশ
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি তাদের দেওয়া অবরোধের পর বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিজেদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের কুসরা এলাকায় গত রোববার থেকে তিনটি বাড়ি ঘিরে রেখেছিলেন ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা। এ সময় বাড়িগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বিবিসিকে জানান, পুরো গ্রামকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি যেসব ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছে, তাদের কয়েকটি বাড়ি ইসরাইলি বাহিনী ব্যারাক হিসেবেও ব্যবহার করছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্যই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
যদিও ইসরাইলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা তদন্ত করছি, দায়ীদের গ্রেপ্তার করব এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
কুসরায় অবরুদ্ধ তিনটি বাড়ির বাসিন্দারা আবু রিদি ও হাসান পরিবারের সদস্য। বৃহস্পতিবার ওই তিন পরিবারের মধ্যে দুটি পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তারা তৃতীয় বাড়িটিতে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা পশ্চিম তীরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমান ইসরাইলি সরকারের আমলে বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বাড়ায় বসতিস্থাপনকারীরা আরও উৎসাহিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
