বুরকিনা ফাসোতে এক দিনে শত শত মানুষকে হত্যা
আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে অন্তত ১৭০ জনকে হত্যা করেছে জিহাদিরা। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি। ওই একইদিনে দেশটির একটি মসজিদ ও ক্যাথলিক গির্জাতেও হামলা হয়। এতে আরও কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। অর্থাৎ, ওই এক দিনে দেশটিতে দুই শতাধিক মানুষ সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন।
বুরকিনা ফাসোর উত্তরাঞ্চলীয় তিন গ্রামে ওই হামলা হয়। সেখানেই ১৭০ জনকে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। হামলার এক সপ্তাহ পর রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক পাবলিক প্রসিকিউটর আলি বেঞ্জামিন কুলিবালি এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইয়াতেঙ্গা প্রদেশের কমসিলগা, নোদিন এবং সোরো গ্রামে হামলা হয়েছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি। সেখানে আনুমানিক ১৭০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর উয়াহিগুয়ার প্রসিকিউটর পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তার অফিস তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং জনগণকে তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে কয়েক ডজন নারী ও শিশু রয়েছে। ওই একইদিনে বুরকিনা ফাসোর একটি মসজিদ ও একটি গির্জায় প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। একইদিনে হলেও দুটি হামলার ঘটনা ছিল আলাদা। মসজিদ ও গির্জায় হামলার ঘটনায় কতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উগ্রবাদী হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ বুরকিনা ফাসো। আল-কায়েদা এবং আইএস সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহীরা আফ্রিকান দেশটিতে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সহিংসতার কারণে দেশটিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাস্তচ্যুত হয়েছে ২০ লাখ মানুষ। সব মিলিয়ে সাহেলে অবস্থিত দেশটি একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় ভুগছে।
বুরকিনা ফাসোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এ জন্য তিনি তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চান। বুরকিনা ফাসোর মসজিদের ইমামরা অতীতে জিহাদিদের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। আবার হামলা হয় দেশটির খ্রিস্টানদের টার্গেট করেও। বুরকিনা ফাসোর গির্জাগুলিও মাঝে মাঝে হামলার শিকার হয়। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট বলছে, শুধু জানুয়ারিতেই এ ধরনের সহিংসতায় ৪৩৯ জন নিহত হয়েছে।
