পিটিআই নেতাকর্মীদের ১০ বছরের কারাদণ্ড, অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর অন্তত কয়েক ডজন নেতাকর্মীকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানের গ্রেফতার-পরবর্তী সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ সাজা দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলীয় নেতা মালিক আহমদ ভাচার, একজন বর্তমান এবং একজন সাবেক সংসদ সদস্যসহ আরও একাধিক শীর্ষস্থানীয় পিটিআই নেতা। সরকারের ডেপুটি আইনমন্ত্রী আকিল মালিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মালিক আহমদ ভাচারকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সারগোধার একটি আদালত ৩৪ জন এবং লাহোরের আদালত ৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযোগ ছিল, ইমরান খানের গ্রেফতারের পর তাঁরা সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ করেন।
লাহোরে সাজাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন পাঞ্জাবের সাবেক গভর্নর ওমর সরফরাজ চিমা, সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী ইয়াসমিন রাশিদ এবং সিনেটর ইজাজ আহমদ চৌধুরী। তবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি ও আরও পাঁচজনকে এসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইমরান খানের দল পিটিআই এই রায়কে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের মুখপাত্র সাইয়েদ জুলফিকার বুখারী এক বিবৃতিতে বলেন, “এই বিচার একটি রাজনৈতিক নাটক মাত্র, যা দ্রুততার সঙ্গে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।”
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেফতার হওয়ার পর পাকিস্তানজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় সেনা স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। যেসব অভিযুক্ত সেনাবাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছেন, তাদের বিচার সামরিক আদালতে করা হচ্ছে।
বর্তমানে কারাগারে থাকা ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার বিচার চলছে। জাতিসংঘের এক প্যানেল এর আগে জানিয়েছে, ইমরান খানের গ্রেফতার অবৈধ এবং তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই জেলে রাখা হয়েছে।
