সেই পেহেলগামে মন্ত্রিসভার বৈঠক, ওমর বললেন—“ভয় নয়, বার্তা দিতে এসেছি”
সন্ত্রাসের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও টাটকা পেহেলগামে। মাত্র এক মাস আগে, ২২ এপ্রিল, ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৫ জন পর্যটক ও এক কাশ্মীরি ঘোড়াওয়ালা। এমন ভয়াবহতার পর, কাশ্মীরের পর্যটন ছিল প্রায় থমকে। সেই আতঙ্কের আবহেই সাহসী পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর—তিনি তাঁর মন্ত্রিসভা নিয়ে পৌঁছে গেলেন পেহেলগামে, সরকারি বৈঠক করতে।
এই বৈঠক ছিল না কোনও সাধারণ প্রশাসনিক কাজকর্মের রুটিন। এটা ছিল এক স্পষ্ট বার্তা—কাশ্মীর ভয় পায় না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত আচরণে আমরা ভীত নই। পেহেলগামে বৈঠকের মাধ্যমে সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি।”
বৈঠকের পরে সামাজিক মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। পেহেলগাম ক্লাবে মন্ত্রিসভার বৈঠক, আবার লিডার নদীর ধারে নিজের একটি ছবিও। সঙ্গে লেখেন, “এটা ছিল শুধু বৈঠক নয়, এক বার্তা—আমরা সন্ত্রাসীদের ভয় পাই না।”
তিনি আরও লেখেন, “শান্তির শত্রুরা আমাদের প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যয় ভাঙতে পারবে না। জম্মু-কাশ্মীর আজও দৃঢ়, শক্তিশালী, নির্ভিক।”
প্রথা অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরে শীত ও গ্রীষ্মে প্রশাসনিক সদর দপ্তর বদলায়—জম্মু থেকে শ্রীনগর, শ্রীনগর থেকে জম্মু। সেই রীতি ভেঙে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু করেছিলেন ওমর আবদুল্লাহ, তাঁর প্রথম দফার শাসনকালে (২০০৯-২০১৪)। গুরেজ, মাছিল, টাংধার, রাজৌরি, পুঞ্চ—সব জায়গাতেই বসেছে কেবিনেট।
রাজ্য দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর এই প্রথম শ্রীনগর বা জম্মুর বাইরে কোথাও মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। আগামীকাল দ্বিতীয় বৈঠক বসবে গুলমার্গে।
পেহেলগামের সন্ত্রাসী হামলার পর পর্যটনশিল্পে যে ধস নেমেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার এবার চাইছে সক্রিয় ভূমিকা নিতে। মন্ত্রিসভার বৈঠক একাধারে দুই বার্তা বহন করছে—পর্যটকদের প্রতি ‘আমরা আছি’ এবং জঙ্গিদের প্রতি ‘আমরা ভয় পাই না’।
এদিকে, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত নীতি আয়োগের বৈঠকে ওমর অনুরোধ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারকে—রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা ও সংসদীয় কমিটিগুলোর বৈঠক যেন জম্মু-কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সভাপতিত্ব করেছিলেন ওই বৈঠকে। ওমরের যুক্তি, “এভাবে একসঙ্গে এগিয়ে এলে কাশ্মীরি মানুষ ভয় ভুলে এগোবে, আর গোটা দেশ জানবে—কাশ্মীর এখনও দাঁড়িয়ে আছে, মাথা উঁচু করে।”
