যে কারণে মুসলিম দেশ হয়েও ইসরাইলকে রক্ষা করেছে জর্ডান
সম্প্রতি ইরান নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইসরাইলে। তবে ইরানের এই হামলা অনেকটাই ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে দেশটি। আর এতে ইসরাইলকে সহযোগিতা করেছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আরব দেশ জর্ডান।
মুসলিম দেশ হয়েও জর্ডানের এই ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ইরানের ড্রোন ও মিসাইল থেকে ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পাশাপাশি বেশ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে জর্ডান। যদিও এক বিবৃতিতে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, তারা নিজের দেশকে রক্ষা করার অংশ হিসেবে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে, ইসরাইলকে সাহায্য করার জন্য নয়।
জর্ডানের এই বিবৃতিকে ‘ভারসাম্য রক্ষার’ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জর্ডানের রাজতন্ত্রের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। গত ২৫ বছর যাবত জর্ডানের বাদশাহ রয়েছেন দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। পর্দার আড়ালে জর্ডানের সাথে ইসরাইলের সম্পর্কও একেবারে খারাপ নয়। জর্ডান প্রমাণ করতে চেয়েছে যে তারা আমেরিকা এবং ইসরাইলের ভালো সহযোগী।
ভৌগোলিকভাবে জর্ডানের অবস্থান এমন একটি অবস্থায় রয়েছে যে ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে কোন যুদ্ধ শুরু হলে সেটির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে জর্ডানের ওপর। জর্ডানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি শরণার্থী, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান – এসব কিছুই তাদের জন্য চিন্তার কারণ।
১৯৯৪ সালে জর্ডান ও ইসরাইলের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে জর্ডান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৯ সালে মিশর ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবার পর জর্ডান ছিল স্বীকৃতি দানকারী দ্বিতীয় আরব মুসলিম দেশ।
