দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘মার্শাল ল’ জারির কয়েক ঘণ্টা পর প্রত্যাহার
পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরোধিতার মুখে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল মঙ্গলবার রাতে আকস্মিকভাবে জারির কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার ভোরে সামরিক আইন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সিউল থেকে এএফপি জানায়, এ বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোটের পর তিনি বলেন, সামরিক আইনের অবসান ঘটাতে পার্লামেন্টের অবস্থান তিনি মেনে নেবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ আইন প্রত্যাহার করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন প্রণেতারা ইউন সুক ইওলে অপ্রত্যাশিত ঘোষণার বিরোধিতা করে ভোট দেওয়ার পরে ইউন পিছু হটলেন। তার সামরিক আইন জারির ঘোষণা সারা বিশ্বে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও হতবাক করেছিল।
ইউন স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় পরিষদ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়, এবং আমরা সামরিক আইন পরিচালনার জন্য মোতায়েন করা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় পরিষদের অনুরোধ মেনে নেব এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকের মাধ্যমে সামরিক আইন তুলে নেব।’
ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানায়, ইউনের মন্ত্রিসভা আদেশ প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বলেন, পার্লামেন্টের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি সামরিক আইন প্রত্যাহারের কথা সামরিক বাহিনীকে জানিয়েছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, পার্লামেন্টের প্রস্তাব গ্রহণ ও সামরিক আইন প্রত্যাহার করার জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠক করছে। বৈঠকের পর সামরিক আইন তুলে নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে ৪০ বছর পর মধ্যে প্রথমবারের মতো জরুরি ভিত্তিতে সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল।
সূত্র: বাসস
