গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এর আগে এরকম প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলেও এবার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দেশটি। এমনকি ভোট দেয়া থেকেও বিরত ছিল ওয়াশিংটন। নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রস্তাবে সব জিম্মিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর বেশ কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরে নিরাপত্তা পরিষদ এই প্রথম যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালো। গাজায় ইসরাইলের আক্রমণের প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ তার এবং তার মিত্র ইসরাইলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রস্তাব পাসের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর আগে জিম্মি মুক্তির সাথে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি যুক্ত রাখা হলেও এবার যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সেই অবস্থান পরিত্যাগ করেছে। এতে বলা হয়েছে, দুঃখের বিষয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রস্তাবনায় ভেটো দেয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটা জিম্মিদের মুক্তির প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এটি হামাসকে ধারণা দিয়েছে যে, তারা বন্দীদের মুক্ত না করে যুদ্ধবিরতি অর্জনের জন্য ইসরাইলের উপর আন্তর্জাতিক চাপ ব্যবহার করতে পারে। ওয়াশিংটনে একটি ইসরাইলি প্রতিনিধিদল এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, গাজায় এখনও যেহেতু জিম্মিরা আটকে রয়েছে, তাই ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করবে না। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি, রিয়াদ মনসুর প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটা আরও অনেক আগেই করা দরকার ছিল। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানাতে এই কাউন্সিলের ছয় মাস সময় লেগেছে।
এদিকে হামাস এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে যে, তারা অবিলম্বে বন্দী বিনিময় প্রক্রিয়ায় জড়িত হতে প্রস্তুত। যা উভয় পক্ষের বন্দীদের মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। তবে, বাকি ১৪ সদস্য এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
