চিকিৎসকরা বলেছিলেন আয়ু ৫ মাস, রোগী বাঁচলেন ৩৯ বছর
রোগীর হার্ট যদি একেবারেই ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। ট্রান্সপ্লান্ট হয়ে গেলেও সবাই একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চান যে সেই মানুষ কত বছর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন? কেউ বলছেন ৫ বছর, ১০ বছর আবার কেউ বলছেন ১৬ বছর। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বার্ট জ্যানসেন এই সমস্ত দাবি অস্বীকার করে দিয়েছেন। গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করানোর পরেও বার্ট জ্যানসেন বেঁচে আছেন ৩৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এরমধ্য দিয়ে তিনি করে ফেলেছেন দীর্ঘতম জীবিত ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর রেকর্ড।
হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, জ্যানসেনের বর্তমান কার্ডিওলজিস্ট ক্যাসপার ইউরলিংস। তিনি জানান, ট্রান্সপ্লান্টের পরে হৃদরোগীদের গড় আয়ু থাকে মাত্র ১৬ বছর। তবে জ্যানসেন বেচেছেন তার দ্বিগুণেরও বেশি। ১৯৮৪ বার্ট জ্যানসেন জানতে পারেন যে তার একটি গুরুতর হৃদ্রোগ রয়েছে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামের ওই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে তার হার্ট আর রক্ত পাম্প করতে পারে না। তাকে পরীক্ষা করার পরে ডাক্তার বলেছিলেন যে জ্যানসেন আর পাঁচ মাস বেঁচে থাকবেন। কিন্তু আজ প্রায় ৪০ বছর পরে এসে এই ব্যক্তি প্রমাণ করেছেন যে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকা একেবারেই সম্ভব।
জ্যানসেন বলেছেন যে, তিনি মানুষের জন্য একটি উদাহরণ হতে চান। ১৯৮৪ সালে জ্যানসেন যখন তার রোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তখন নেদারল্যান্ডে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করার জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তিও ছিল না। তাই কার্ডিওলজিস্ট অ্যালবার্ট ম্যাটার্ট বার্ট জ্যানসেনকে ইংল্যান্ডের হেয়ারফিল্ড হাসপাতালে রেফার করেছিলেন তখন। কয়েক বছর পরে একটি মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই যুবক মারা গিয়েছিল। এরপর তাদের উভয়ের অঙ্গ দান করার কারণে, একই বছরের জুনে জ্যানসেনের ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি করা হয়েছিল। মাগদি ইয়াকুবের তার এই জীবন রক্ষাকারী অপারেশনটি করেছিলেন। জ্যানসন খুব ফিট কিন্তু হার্ট-সম্পর্কিত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তাকে নিজের জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরেও ৩৯ বছর এবং ১০০ দিন বেঁচে থাকার জন্য জ্যানসেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। গিনেস অনুসারে, আগের রেকর্ডটি ছিল ৩৪ বছর ৩৫৯ দিনের। ২০২১ সালে কানাডিয়ান হ্যারল্ড সোকিরকা এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। ডাক্তাররা বলছেন যে, ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের নিশ্চিতরূপে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা এবং সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। জ্যানসেন ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন, সেই কারণেই তিনি এত দিন ধরে বেঁচে থাকতে পেরেছেন।
