আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৩ শিশু ও ৫ নারী নিহত
এক আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানের সাত সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে অন্তত আট জন নিহত হয়েছে। তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিন শিশু ও পাঁচ নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ভোর তিনটার সময় পাকিস্তান সীমান্তের কাছে দুইটি জায়গায় বিমান হামলা হয়।
ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিমান হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, পাকিস্তানি তালেবানের গোষ্ঠীগুলিকে টার্গেট করা হয়েছিল। তাদের কাছে গোয়েন্দারা নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছিল। তার ভিত্তিতে এই আক্রমণ করা হয়। যদিও নিহতের মধ্যে কোনো পুরুষ নেই বলে জানিয়েছে তালেবান।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এপি-কে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানের সম্পর্ক আছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র এই বিমান হামলার নিন্দা করে বলেছেন, এটা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত। এর প্রতিক্রিয়া ভালো হবে না। একটি পৃথক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে।
এপি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আফগান তালেবানের গুলিতে চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। বাকি গ্রামবাসীকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর সীমান্তে যে গুলি চলেছে, পাকিস্তান তার জবাবও দিয়েছে।
এর আগে গত শনিবার পাকিস্তান সেনার উপর আত্মঘাতী হামলা হয়। তাতে সাতজন সেনা মারা যান। তাদের শেষকৃত্যে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, এই আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। শহিদ সেনার রক্ত ব্যর্থ হবে না। শনিবারের আত্মঘাতী হামলার দাবি করেছে জৈশ-ই-মুহাম্মদ গোষ্ঠী। কিন্তু পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের দাবি, এটা মূলত নিষিদ্ধ তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি-র শাখা সংগঠন।
