ইসরাইলি বোমা বৃষ্টি আর অবরোধের মধ্যেই গাজায় রমজান শুরু
ফিলিস্তিনিদের রমজান শুরু হলো ইসরাইলি বর্বর হামলার মধ্য দিয়ে। ইসরাইলের ‘গণহত্যা’ ও অবরোধের কারণে ক্ষুধায় ছেয়ে যাওয়া গাজার মানুষেরা এমন এক রমজান শুরু করলেন, যা বিশ্বের অন্য মুসলিমদের চিন্তারও বাইরে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৮৫ ফিলিস্তিনি। এতে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৩১ হাজার। ইসরাইলের এই হামলায় নিহতদের ৭২ শতাংশই নারী ও শিশু।
নির্বিচারে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি। সব মিলিয়ে গাজা ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের প্রায় ৫ শতাংশই ইসরাইলি হামলায় হতাহত হয়েছেন। রমজান শুরু হলেও চলছে এই আক্রমণ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানের প্রথম দিনের ওই হামলায় আরও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
এদিকে সরাসরি হামলা ছাড়াও অপুষ্টি এবং ডিহাইড্রেশনেও মারা যাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। এরইমধ্যে এমন ২৫ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) অস্থায়ী রায়কে লঙ্ঘন করে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। ২০২৩ সালে হামাসের এক হামলাকে অযুহাত হিসেবে ব্যবহার করে গাজায় নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে ২০ লাখ মানুষকে, যা গাজার মোট জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ।
এরইমধ্যে রমজান মাস উপলক্ষ্যে সারা বিশ্ব থেকে ইসরাইলকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হচ্ছিল। এমনকি যেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সবসময় সমর্থন দিয়ে এসেছে, সেটিও রমজান মাসে হামলা বন্ধের আহ্বান জানায়। কিন্তু ইসরাইলের নির্বিচারে বোমা বর্ষণ থামার কোনো নাম নেই।
