যে কারণে গাজা উপকূলে অস্থায়ী বন্দর বানাবে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য গাজা উপকূলে একটি অস্থায়ী বন্দর নির্মাণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার স্টেট অব দা ইউনিয়ন ভাষণে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। ওই বন্দরের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের কাছে পাঠানো ত্রাণ সহায়তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। প্রতিদিন অতিরিক্ত কয়েকশ ট্রাকে করে এসব ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এর আওতায় গাজার মাটিতে কোন মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে জানানো হয়, জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে গাজার এক চতুর্থাংশ মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন অস্থায়ী বন্দরটি নির্মাণ শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। এ বন্দরে খাদ্য, পানি, ঔষধ ও অস্থায়ী আশ্রয় সামগ্রী নিয়ে বড় জাহাজ আসতে পারবে। প্রাথমিকভাবে এসব জাহাজগুলো সাইপ্রাস হয়ে গাজায় যাবে। সাইপ্রাসেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সেগুলোর নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করবে। গাজার পরিস্থিতিকে হৃদয় বিদারক উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত সাতই অক্টোবর হামাস ইসরাইলের ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে প্রায় ১২০০ মানুষকে হত্যা এবং আরও ২৫৩ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এর পর থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজায় স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৮০০ এর বেশী মানুষ। তবে এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে কারা কীভাবে গাজায় সেই ত্রাণসামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
গাজায় কোন গভীর সমুদ্র বন্দর নেই। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ থেকে ত্রাণ সামগ্রী কীভাবে নেয়া হবে তার উপায় খুঁজছিলো। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সিবিএসকে বলেছেন ভার্জিনিয়া ভিত্তিক সপ্তম ট্রান্সপোর্টেশন ব্রিগেডতে দিয়ে পিয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। যদিও গাজার পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করছে যে তারা দ্রুত এ কাজটি করতে চায়। ওই ব্রিগেডটি এ ধরণের কাজ দ্রুত করার জন্যই তৈরি করা। তবে এখনো কোন সামরিক জাহাজ এ উদ্দেশ্যে গাজায় যেতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েনি।
