ভুল বিচারে ফাঁসি হয় ভুট্টোর, ৪৪ বছর পর স্বীকার পাক সুপ্রিম কোর্টের
আজ থেকে ৪৪ বছর আগে ফাঁসি দেয়া হয় পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোকে। তাকে বিরোধী নেতা হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল পাকিস্তানের আদালত। তবে এতদিন পর এসে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, ভুট্টো আসলে সুষ্ঠু বিচার পাননি। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
খবরে জানানো হয়, পাকিস্তানে জেনারেল জিয়া-উল-হকের সামরিক শাসনামলে ১৯৭৯ সালে ভুট্টোর বিচারের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। এখন তার দল পিপিপি এখন পরিচালনা করছেন নাতি বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। তিনি ওই রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্টে ছিলেন।
বুধবারের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কাজি ফয়েজ ইসা বলেছেন, ভুট্টোর সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার শর্তগুলো পূরণ হয়নি এবং যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির বেঞ্চের এই রায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। টিভিতে এ রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। যে বিচারে জুলফিকার আলি ভুট্টোকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, তা আবার পর্যালোচনার জন্য গত বছর ডিসেম্বরে আবেদন করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। ২০১১ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে ওই আবেদন করেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জারদারি। তিনি জুলফিকার আলি ভুট্টোর মেয়ে বেনজির ভুট্টোর স্বামী। বেনজির নিজেও ২০০৭ সালে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান।
গত বছর সুপ্রিম কোর্টে জারদারি তার আবেদনের মাধ্যমে জুলফিকার আলি ভুট্টোর হত্যা মামলার রায় পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানালে ১২ বছর পর ফের আলোচনায় আসে ওই মামলা। এরই শুনানি শেষে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় দিয়েছে। রায়ের পর বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এক্সে লিখেছেন, আমাদের পরিবার এই কথাগুলো শোনার জন্য তিন প্রজন্ম ধরে অপেক্ষায় ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে জুলফিকার আলি ভুট্টোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়া-উল-হকের বাহিনী। সামরিক সরকার বিরোধী নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ভুট্টোকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই বিচারকে প্রহসনের বিচার হিসেবেই দেখে এসেছে ভুট্টো পরিবার।
