ঈদের দিন ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল অন্তত ৪২ ফিলিস্তিনির
ছবি: সংগৃহীত।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে যখন বিশ্বের মুসলিমরা উৎসবে মেতে উঠেছেন, তখন রক্তে ভাসছে ফিলিস্তিনের গাজা।
ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় শনিবার (৭ জুন) কমপক্ষে ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আল-জাজিরার বরাতে জানা যায়, খান ইউনূসের নাসের হাসপাতালে পৌঁছেছে অন্তত ১৬টি মরদেহ। একই দিনে গাজার উত্তরে আল-শিফা হাসপাতালে আরও ১৬ জন, আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে পাঁচজন ও দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে আরও পাঁচজনের মরদেহ আনা হয়।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়া এক সাংবাদিক শুক্রবার মারা যান। এতে চলমান সংঘাতে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২৬ জনে।
বিতরণ কেন্দ্র বন্ধ, খাদ্য সংকটে আরও বিপর্যস্ত গাজাবাসী
অপরদিকে, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) তাদের সব খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এক ফেসবুক পোস্টে ফাউন্ডেশনটি জানায়, "নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে অনুরোধ করছি, কেউ যেন বিতরণকেন্দ্রগুলোতে না যান।"
গত মার্চ থেকে গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ আরও কঠোর হওয়ার পর, খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানি সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত মাসে সামান্য পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি মিললেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছেন ত্রাণকর্মীরা।
ভোররাতে গুলি, ভয়ের নগরে পরিণত গাজা
গেল রোববার ভোরে খাবারের সন্ধানে যখন হাজারো মানুষ রাস্তায় নামেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোর ৩টার দিকে গাজার ফ্ল্যাগ রাউন্ডঅ্যাবাউটে উপস্থিত জনতার ওপর গুলি চালানো হয়।
“চারদিক থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছিল—নৌকা, ট্যাংক আর ড্রোন থেকে,” এমনটাই জানান ভিড়ের মধ্যে থাকা আমর আবু তাইবা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৪ হাজার ৬৭৭ জন এবং আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ২৫ হাজার ৫৩০ জন।
