বক্সার থেকে প্রেসিডেন্ট, পোল্যান্ডে কারোল নাওরোকির চমকপ্রদ জয়
এক সময়ের বক্সার, এখন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট! ৪২ বছর বয়সী ইতিহাসবিদ কারোল নাওরোকি অতি অল্প ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। সোমবার দেশটির নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নাওরোকি পেয়েছেন ৫০.৮৯ শতাংশ ভোট—প্রতিদ্বন্দ্বী উদারপন্থী মেয়র রাফায়েল ত্রাশকোভস্কি পেয়েছেন ৪৯.১১ শতাংশ।
ডানপন্থী ল অ্যান্ড জাস্টিস (PiS) দলের প্রার্থী নাওরোকির পরিচয় শুধুই রাজনীতিক নয়—তিনি একজন ইতিহাসবিদ, প্রাক্তন অপেশাদার বক্সার এবং নিজেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরেন। এক সময়ের যুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালক এখন দেশের সর্বোচ্চ পদে।
নির্বাচনি প্রচারণায় নাওরোকির স্লোগান ছিল পরিষ্কার—“সামাজিক সুবিধা পাবে পোল্যান্ডবাসী আগে।” তিনি বারবার বলেন, পোলিশ নাগরিকদের চিকিৎসায় অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এক বক্তব্যে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কৃতজ্ঞতা না জানানোর অভিযোগ তোলেন এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে সরাসরি “দাম্ভিক” বলেন। এমনকি ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ প্রার্থিতার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন।
নাওরোকির এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মে মাসে হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প তাকে সোজাসুজি বলেন, “তুমি জিতবে।” পরে প্রকাশিত ছবিতে দুজনকে একসঙ্গে থাম্বস আপ দিতে দেখা যায়। তবে এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পোলিশ সরকারেরই কিছু সদস্য। অনেকে এটিকে ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপ’ হিসেবেও দেখছেন।
শৈশবে বক্সিং ও ফুটবলে আগ্রহী নাওরোকি গদানস্ক শহরে বেড়ে উঠেছেন। ইতিহাসে পিএইচডি ও এমবিএ ডিগ্রিধারী এই নেতা ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গদানস্কের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালক ছিলেন। এরপর ‘ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল রিমেমব্রান্স’-এর নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে মূল গবেষণা বিষয় কমিউনিস্ট আমলের অপরাধ ও ক্রীড়া ইতিহাস।
২০২৪ সালে সোভিয়েত যুগের স্মৃতিস্তম্ভ অপসারণে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নাওরোকিকে ‘ওয়ান্টেড লিস্ট’-এ রাখে রাশিয়া।
একটি অদ্ভুত তথ্যও সামনে এসেছে—২০১৮ সালে ‘নিকোডেম স্কোতারচাক’ নামের কুখ্যাত অপরাধীকে নিয়ে তিনি লিখেছিলেন একটি বই ছদ্মনামে। পরে জানা যায়, বইটির লেখক তাদেউস্ বাতির আর কেউ নন, স্বয়ং নাওরোকি! এই নিয়ে তখন দেশে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শপথের অপেক্ষায় এখন পুরো পোল্যান্ড। তবে জাতীয়তাবাদী এই নেতার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে শুধু দেশবাসী নয়, গোটা ইউরোপ।
