৩৫০ বাদামী ভালুক হত্যা করবে স্লোভাকিয়া, বিক্রি হবে মাংস
ইউরোপের কেন্দ্রে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক অবাক করা সিদ্ধান্ত—স্লোভাকিয়ার বাজারে শিগগিরই বিক্রি হতে পারে বাদামী ভালুকের মাংস! পপুলিস্ট সরকারের এই উদ্যোগে যেমন বিস্ময়, তেমনি উদ্বেগ ছড়িয়েছে পুরো ইউরোপজুড়ে।
দেশটির সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, সম্প্রতি বাড়তে থাকা মানুষ-ভালুক সংঘর্ষ ঠেকাতে ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি বাদামী ভালুকের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি প্রাণঘাতী হামলার পর প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো স্পষ্ট জানান, ৩৫০টি ভালুক শিকার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে বনে ঘুরতে পারেন।
তবে শিকার করেই থেমে থাকছে না সরকার। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ও আইন মেনে এই ভালুকের মাংস বাজারে বিক্রি করা হবে। পরিবেশমন্ত্রী ফিলিপ কুফা বলেন, "ভালুকের মাংস খাওয়া যায়, তাই এটিকে অপচয় না করে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত।" আগে এসব শিকার করা প্রাণীর দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হতো নির্দিষ্ট স্থানে।
এই সিদ্ধান্তে পরিবেশবাদী সংগঠন ও ইউরোপীয় সংসদের একাধিক সদস্য চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ‘গ্রিনপিস স্লোভাকিয়া’র মিরোস্লাভা আবেলোভা এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় সংসদের সদস্য মিখাল ভিয়েজিকও এই পরিকল্পনাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, হাজারো সংঘর্ষ শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হয়, গণহারে শিকার কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।
বিশ্ব সংরক্ষণ ইউনিয়নের তালিকায় বাদামী ভালুককে 'নিশ্চিহ্ন হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ' প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেবল জননিরাপত্তার সরাসরি হুমকিতে শিকারের অনুমতি দেওয়া যায়।
তবে স্লোভাকিয়া সরকারের যুক্তি—ভালুকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াতেই সংঘর্ষ বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে স্লোভাকিয়ায় ৫৪টি ভালুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরে গড়ে ১০টিতে পৌঁছেছে। ভালুকের হামলার ঘটনায় ইউরোপে রোমানিয়ার পরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
ভালুকের মাংস ইউরোপে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। মূলত পূর্ব ইউরোপ ও নর্ডিক দেশগুলোর কিছু অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই মাংসে 'ট্রিচিনেলা' নামের একটি পরজীবীর সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে, যা মানুষকে গুরুতর অসুস্থ করতে পারে। তাই ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, বাজারজাত করার আগে প্রতিটি মাংসের নমুনা এই পরজীবীর জন্য পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। রান্নার সময়ও অবশ্যই ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে সিদ্ধ করতে হবে।
স্লোভাকিয়ার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইউরোপে উঠেছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। সংরক্ষণ বনাম নিরাপত্তার এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভালুকদের ভাগ্য—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
