ডেঙ্গুতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৭৪০
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে এবছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখলো দেশব্যাপী; গত এক দিনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে আর এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪০ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১৭৯ জনের প্রাণ গেল। আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়াল ৪১ হাজার ৮৩১ জনে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর এ সবশেষ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দুইজন, বগুড়া পাথরঘাটা ইউএইচসি হাসপাতালে দুইজন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কোভিড-১৯ হাসপাতালে একজন, একজন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, ও চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে একজন একজন রোগী মারা যান।
মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে ছয়জন নারী ও ছয়জন পুরুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি নতুন রোগীদের মধ্যে ২৩৭ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার। এর বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৪৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৭ জন, খুলনা বিভাগে ৫২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন ও বরিশাল বিভাগে ১৬৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫২ জন রংপুর বিভাগে ৩ জন ও সিলেট বিভাগে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে জুলাই মাসে। তবে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে সেপ্টেম্বর মাসে। এই পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জন ডেঙ্গু রোগীর, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুন মাসে ১৯ জন, অাগস্ট মাসে ৩৯ জন মারা যান। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৯ জন। মার্চ মাসে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
এ বছর জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি, ১০ হাজার ৬৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১৭৭৩ জন, জুন মাসে ৫৯৫১ জন, অগাস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সেপ্টেম্বরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৩৮ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
