ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কপিরাইট লড়াইয়ে একজোট হলিউড
সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের করা কপিরাইট মামলায় সমর্থন জানাচ্ছে হলিউডের প্রভাবশালী তারকা, শিল্পী সংগঠন ও প্রতিভা ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো।
এআই মডেল প্রশিক্ষণে অনুমতি ছাড়া সৃজনশীল কাজ ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তারা বলছে, লেখক, শিল্পী ও নির্মাতাদের কাজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমতি এবং পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মামলাটিতে নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষে আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে একাধিক সংগঠন ও সংস্থা ‘অ্যামিকাস ব্রিফ’ বা আদালতের বিবেচনার জন্য তৃতীয় পক্ষের মতামত জমা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হলিউডের প্রতিভা ব্যবস্থাপনা সংস্থা ডব্লিউএমই, ক্রিয়েটিভ আর্টিস্টস এজেন্সি (সিএএ), অভিনেতা-শিল্পীদের সংগঠন স্যাগ-আফট্রা এবং রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা।
ডব্লিউএমইর যুক্তি, কপিরাইট থাকা সৃজনশীল কাজ এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমতি ও লাইসেন্স নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এ ধরনের কাজ বিনা অনুমতিতে ব্যবহারের সুযোগ দিতে ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের যুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সৃজনশীল কাজের স্বত্বাধিকারীদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ ব্যবহারের বাজার ও কাঠামো ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে।
এ মামলায় সমর্থন জানানো শিল্পী ও বিনোদনজগতের ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, ম্যাডোনা, বেট মিডলার, এমা থম্পসন, হেলেন মিরেন, ড্যান লেভি ও অলিভিয়া ওয়াইল্ড। অভিনেতা কেট ব্ল্যানচেটের নেতৃত্বাধীন হিউম্যান কনসেন্ট ফাউন্ডেশনও এ বিষয়ে আদালতে মতামত জমা দিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, মানুষের সৃজনশীল কাজ, কণ্ঠস্বর, চেহারা কিংবা পরিচিতি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া উচিত।
স্যাগ-আফট্রা, রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা ও আমেরিকান ফেডারেশন অব মিউজিশিয়ানসও যৌথভাবে আদালতে অবস্থান তুলে ধরেছে। তাদের মতে, অনুমতি, স্বীকৃতি ও পারিশ্রমিক ছাড়া মানুষের তৈরি কাজ ব্যবহার করলে সৃজনশীল পেশাজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই সঙ্গে এতে তাদের শ্রমের মূল্য কমে যায় এবং ভবিষ্যতে কাজের লাইসেন্স দেওয়ার বাজারও বাধাগ্রস্ত হয়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান দুটি অনুমতি বা অর্থ প্রদান ছাড়াই তাদের বিপুলসংখ্যক প্রতিবেদন ও অন্যান্য লেখা এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। এর মাধ্যমে তারা এমন প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করছে, যা সংবাদমাধ্যমটির নিজস্ব কাজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে এবং তার সাংবাদিকতার ব্যবসায়িক ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের যুক্তি, কপিরাইটযুক্ত উপাদান ব্যবহার করে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি প্রযুক্তি মূল লেখার সরাসরি অনুলিপি নয়; বরং তা নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করে। তবে এ যুক্তির বিরোধিতা করছেন সংবাদমাধ্যম, লেখক ও বিনোদনশিল্পের প্রতিনিধিরা।
মামলাটির পরবর্তী ধাপও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক টাইমস গত সেপ্টেম্বরে আদালতের কাছে সংক্ষিপ্ত রায় চেয়ে আবেদন করেছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের জবাবি বক্তব্য জমা দেওয়ার সময়সীমা শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা। এরপর বিচারক আবেদনটির ভিত্তিতে রায় দেবেন, নাকি মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারে পাঠাবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মামলাটির রায় শুধু সংবাদমাধ্যমের কপিরাইট সুরক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, এআই প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত উপাদান ব্যবহারের জন্য অনুমতি ও অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক মডেল এবং কনটেন্ট লাইসেন্সিংয়ের বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
তথ্য সূত্র- পেইজ সিক্স।
