আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ চান শিক্ষকরা
আসন্ন ঈদের পূর্বেই বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানসহ, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের জন্য আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দসহ আট দফা বাস্তবায়নের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু। লিখিত বক্তব্যে তিনি নিন্মোক্ত আট দফা দাবী উত্থাপন করেন।
দাবীগুলো হলো-
১. আসন্ন ঈদের পূর্বেই পূর্নাঙ্গ উৎসব ভাতা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাড়ী ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের সমপরিমাণ করতে হবে।
২. অবিলম্বে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা তথা আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যয়ে একটি জীবন ও জীবিকা কেন্দ্রিক কারিগরি এবং বিজ্ঞান মনষ্ক সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সু-স্পষ্ট সময় নির্ধারণ পূর্বক জাতীয়করণ কার্যক্রমের সুষ্ঠু ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন নীতি নির্ধারন এবং তার সফল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য জরুরীভাবে কমিটি গঠন করতে হবে।
৩. শূন্য পদের বিপরীতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বদলীর ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
৪. অতিদ্রুত বিভিন্ন বোর্ড কর্তৃক যথাযথ নিয়মে এফিলিয়েশনপ্রাপ্ত সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান সমুহ এমপিওভুক্তির আওতায় আনতে হবে।
৫. সরকারের স্বদিচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মাউশিসহ বিভিন্ন অধিদপ্তর, শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৬. সকল শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে ডিভাইস, খাতা কলমসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী প্রদান ও মাধ্যমিক পর্যায়ে (স্কুল, মাদরাসা, কারিগরি) শিক্ষার্থীদের সরকারি উদ্যোগে দুপুরের টিফিন এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের দুর্দশা লাঘবে শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
৮. ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত এবং স্কুল পর্যায়ে ন্যূনতম ডিগ্রী পাশ ও কলেজ পর্যায়ে নূন্যতম মাষ্টার্স পাশ স্বচ্ছ ইমেজ সম্পন্ন ব্যক্তিদের মনোনয়ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মোঃ সাজিদুল ইসলাম, মেহেরুন্নেছা, অধ্যক্ষ মোনতাজ উদ্দিন মর্তুজা, তেলোয়াত হোসেন খান, অধ্যক্ষ একেএম মোকসেদুর রহমান, অধ্যক্ষ সলিম উল্লাহ সেলিম, একেএম ওবায়দুল্লাহ, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা খোসনেবিশ, হারুন অর রশিদ, এম, আরজু, শাহজাহান খান, সিদ্দিকুর রহমান।
