তাহসিফ হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ দীপ
সংগৃহীত ছবি
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। মামলা হওয়ার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করেছেন, এরপরই আমরা তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছি।”
ছেলের লাশ উদ্ধারের পর প্রথম দিকে মামলা করতে অনীহার কথা জানিয়েছিলেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তবে ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার গভীর রাতে উত্তরখান থানায় ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম বলেন, “তাহসিফকে হত্যার অভিযোগ এনে তার বাবা একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।”
পরিবারের পক্ষ থেকে মামলায় সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি। তবে ঘটনার দিন মধ্যরাত পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে থাকা দীপকে ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত তাকেই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
তাহসিফের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলাটি তদন্ত করবে লাশ উদ্ধারকারী ইউনিট নৌ-পুলিশ।
তিন দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
শুক্রবার রাতে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই।
মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা দীপ নিজেও স্বীকার করেছিলেন। একপর্যায়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও যান পিবিআই কর্মকর্তারা।
যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ
তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
দীপ বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, তাহসিফের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেয়েছিলেন তিনি। পরে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।
তবে পরবর্তী সময়ে তাহসিফের মোটরসাইকেল টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পাওয়া যাওয়ায় এবং ওই এলাকায় দুজনের যাওয়ার তথ্য সামনে আসায় তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন তাহসিফ। তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা এবং দীপকে গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্য দিয়ে তদন্ত নতুন পর্যায়ে গড়াল।
