কুমিল্লায় স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সিয়ামকে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। অভিযুক্তদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই আসামিকে রাখা হয়েছে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
নির্জন বনে নিয়ে হত্যা
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বিকালে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়।
এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে অন্য দুই কিশোর বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তিনজন।
সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, বাসা থেকে ফোন উদ্ধার
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বিচারের অপেক্ষায় বাবা
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কোটবাড়ী এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
ছেলেকে হারিয়ে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, “ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে।”
তিনি বলেন, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার চান। আদালতে দ্রুততম সময়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে বয়সের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে যেন কোনো আসামি বিচারের আওতার বাইরে যেতে না পারে, সেই প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।
