বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে ইউনূসের আবেদন
গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। রোববার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে এই আবেদন করেন তিনি। আবেদনে বলা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যেতে চান। কিন্তু আদালত যেহেতু দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবহিত করতে বলেছেন তাই এই আবেদন করা হলো।
সোমবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের করা মামলায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঢাকার শ্রম আদালত-৩ এর বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালত ইউনূসকে ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। ওইদিনই তিনি এক মাসের মধ্যে আপিলের শর্তে জামিন পান।
গত ২৮ জানুয়ারি সকালে সাজা বাতিল চেয়ে আপিল আবেদন করে আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকেও জামিন পান তিনি। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ সেই জামিনের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়েছে। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউনূসকে বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি লাগবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গত বছরের ৬ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের চার সাক্ষীর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলাটি করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) এস এম আরিফুজ্জামান। মামলার নথি অনুসারে, আইএফইডি কর্মকর্তারা ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকমের অফিস পরিদর্শন করে শ্রম আইনের বেশ কিছু লঙ্ঘন খুঁজে পান।
সেই বছরের ১৯ আগস্ট গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ৬৭ কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। এ ছাড়া কর্মচারীদের পার্টিসিপেশন ও কল্যাণ তহবিল এখনো গঠন করা হয়নি এবং কোম্পানির যে লভ্যাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা ছিল তার পাঁচ শতাংশও পরিশোধ করা হয়নি।
