ঠাকুরগাঁওয়ে সুদারুদের চাপে প্রাণ দিলেন আরেক স্কুল শিক্ষক
দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে ব্ল্যাংক চেক এবং স্ট্যাম্প বন্ধক রেখে। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর থাকায় পড়ছে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায়। এভাবে মামলায় জর্জরিত হচ্ছেন গরবী মানুষ। হামলা, মামলা এমনকি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে।
গত রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে দাদন ব্যবসায়ীদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আক্তারুল ইসলাম নামে এক হাইস্কুল শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার পরেও থেমে নেই দাদন ব্যবসায়ীরা। নিহতের পরিবারকে সুদের টাকার জন্য চাপসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। আক্তারুল ইসলাম নসিবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
জানা গেছে, স্থানীয় কিছু দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা ধার নেন শিক্ষক আক্তারুল ইসলাম। সময় মতো সুদসহ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় হাট বাজার ও স্কুলে গিয়ে অপমান-অপদস্ত করতেন তারা। এমনকি বাড়িতে গিয়েও নানান ধরণেরে ও কুকথা বলে আসতেন। দাদন ব্যবসায়ীদের অপমান লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে রবিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস টেবলেট সেবন করেন। তাৎক্ষণিক পরিবারে লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে, পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, “দাদন ব্যবসায়ীদের চাপেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন। রাত-দিন সুদের টাকার জন্য চাপ দিতেন তারা। টাকা না পেলে অশ্নীল কথাবার্তা বলে গালি-গালাজ করতেন। অপমান-অপদস্ত করতেন। অল্প টাকা দিয়েও এখন অনেক টাকা দাবি করছেন দাদনরা। মারা যাওয়ার পরেও তারা সুদের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন”।
স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষক আক্তারুল কিছু ব্যক্তির কাছে সুদের উপর টাকা নিয়েছিলো। সময়মতো টাকা দিতে না পারায় বাড়িতে এসে সুদ কারবারিরা প্রায় অপমান-অপদস্ত করতো। সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
তারা আরো জানান, এনজিওর পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে সুদের কারবারে জড়াচ্ছেন দরিদ্ররা। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অনেকে। বছরের পর বছর সুদ দিয়েও ঋণ শোধ হচ্ছে না। সুদের টাকা আদায়ের নামে দরিদ্র মানুষের ওপর চলে দাদন ব্যবসায়ীদের তাণ্ডব।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক (সাবেক) অ্যাড. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, কেউ যদি কাউকে আত্মহত্যার প্ররোচিত বা মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিতে আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজেই উদ্যোগী হয়ে মামলা করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
আর দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রমিজ আলম।
এর আগে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাঁশঝাড় থেকে চরণখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র দেবনাথ (৫৫) এর মরদেহ উদ্ধান করেন ভুল্লী থানা পুলিশ। ঋণের চাপ সইতে না পেরে তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানান পুলিশ।
