প্রাণ ফিরছে চা বাগানে, গাছে গাছে নতুন কুঁড়ি, টিপিং শুরু
সম্প্রতি বৃষ্টিতে ভিজেছে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। যা চা উৎপাদনে সুফল বয়ে এনেছে। খানিক বৃষ্টিতেই শীতের রুক্ষতা দূর হয়ে গাছ-গাছালিতে কিছুটা সবুজ প্রাণ ফিরেছে, বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলার চা বাগানগুলোতে।
চা বাগানের হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরে একবার করে চা-গাছে প্রুনিং বা ছাঁটাই করা হয়। ডিসেম্বরের পর থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রতি বছর সেকশনে (চা বাগানের সুনির্দিষ্ট এলাকা) প্রুনিং হয়ে থাকে তা নয়।
পর্যায়ক্রমে গড়ে দুই-তিন বছর পর পর চলে প্রতি সেকশনে এই ছাঁটাই কার্যক্রম। তখন চা বাগানগুলোর অন্য এক রূপ ধরা পড়ে। সবুজ সতেজ পাতাগুলো বিলীন হয়ে তখন শুধু মড়া ডালের উপস্থিতি দেখা যায়। সময় গড়ায়। চা-বাগান থেকে ধীরে ধীরে শীত বিদায় নেন। চলে আসে ঋতুরাজ বসন্ত। তবে শীতের আমেজ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায় না। সকালে এবং সন্ধ্যার আঁধারে নামে শীতের উপস্থিতি। এর মাঝেই প্রুনিং করা চা-গাছেরা যেন বৃষ্টির প্রহর গুণতে থাকে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, উপজেলায় প্রথম বৃষ্টির পর প্রুনিং করা চা গাছগুলোয় উঁকি দিয়েছে নতুন কুঁড়ি। ছাঁটাই করা গাছগুলোয় কিছুটা সজীবতাও ফিরেছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে সম্প্রতি সিলেট বিভাগের মাঝে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৭৩ মিলিমিটার।
চা বাগানের মালিকরা জানান, খরার পর এই বৃষ্টি যেন ‘আশীর্বাদ’ হিসেবেই এসেছে। উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছরের শুরুতেই বাগানগুলোতে চা গাছের ডাল ছাঁটাই করা হয়। এতে উৎপাদন ও গুণগতমান ভালো হয়। এবার প্রুনিংয়ের পর মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে চা গাছগুলোতে নতুন পাতা ছাড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের (বিসিএস) সিলেট শাখার চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, বৃষ্টির ফলে প্রুনিং করা চা গাছগুলো কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টির জন্য সঠিক সময়ে চা গাছের কুঁড়ি চলে আসবে। তাড়াতাড়ি চা পাতা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে যাওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, খরার কারণে চা বাগান কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন চা বাগানে ইরিগেশন (সেচ) দিয়ে চা গাছগুলোকে শতভাগ রক্ষা করতে পারছিলেন না। সম্প্রতি বৃষ্টি তাদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে চা গাছগুলো ধীরে ধীরে তার আপন সজিবতা ফিরে পাচ্ছে।
চা শিল্পাঞ্চলে টিপিং শুরু
শ্রীমঙ্গলের চা শিল্পাঞ্চলে টিপিং (চা পাতা চয়ন) শুরু হয়েছে। ১লা মার্চ থেকে বিভিন্ন চা বাগানে এই টিপিং শুরু হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই সব চা-বাগানে পুরোদমে টিপিং শুরু হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, প্লাকিং বা পাতা চয়নের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে চা গাছে টিপিং করা হয়। এটি এক ধরনের পাতা চয়নের মতোই। তবে চা গাছগুলোকে টেবিল ফরমেটে আনার জন্যই টিপিং করা হয়। টিপিং এর পর শুরু হয় প্লাকিং।
প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর চা উৎপাদন মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তখন চা-গাছ গুলোর পাতাসহ মাথা ছাঁটাই করে দেওয়া হয়। যাকে বলে প্রুনিং। এরপর বৃষ্টি হলেই সবুজ কুঁড়ি বের হতে শুরু করে। তখন শুরু হয় প্লাকিং। এ সময় পুরোদমে শুরু হয় চা উৎপাদন। চলে পরবর্তী ডিসেম্বর পর্যন্ত।
