কারাগারে হাজতির মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ পরিবারের
বাগেরহাট জেলা কারাগারে হাজতি ভ্যানচালক মোঃ সেলিম শেখের (৫৫) মৃত্যুর ঘটনায়, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী পেয়ারা বেগম।
নিহত হাজতির স্ত্রী পেয়ারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, "আমার স্বামীর নামে একটি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকায় মোড়লগঞ্জ থানা পুলিশ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার আটক করে বাগেরহাট আদালতে পাঠায়। আদালতে তার জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় জেলা কারাগারে আনা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ আমার স্বামীর অসুস্থতার সংবাদ আমাকে জানায়নি। আমি অন্যদের কাছে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতে পারি এবং বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এসে তাকে মৃত অবস্থায় পাই”।
এই টনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়। তারা যথাসময়ে আমার স্বামীকে হাসপাতালে আনলে মারা যেত না”।
এই কারাগার থেকে একই দিন জামিন পাওয়া আরেক আসামি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কারাগারে সেলিম শেখ একদিন আগেই আমার সামনে অসুস্থ হন। রক্ত বমি করেন। কিন্তু তাকে ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। কারাগারে অন্যদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রায়ই হেলাফেলা করা হয়। অথচ আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলা আছে যে হাজতিদের চিকিৎসার অধিকার খর্ব করা যাবে না। কিন্তু বাগেরহাটে কেউ সেটি মানে না।”
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মোঃ আব্দুল্লাহেল আল আমিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, হাজতি আসামী মোঃ সেলিম শেখ অসুস্থ হলে জেলখানার চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাঁকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠালে সেখানে সেলিম মারা যায়।
কিন্তু বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ সাদিয়া তাসমিম মুনমুন বলেন, "হাজতি মোঃ সেলিম শেখকে (৫৫) মৃত অবস্থায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসপাতালে আনা হয়।"
হাজতি আসামি মোঃ সেলিম শেখের মৃত্যুর সংবাদে হাসপাতালে সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ডেপুটি জেলার মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের দেখেই বিরক্ত হন। কোনো প্রশ্নেরই তিনি উত্তর দেননি।
