জিয়ার সমাধিতে ফুল দেওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতিও রয়েছেন। তাদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাউজান উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চুয়েট ক্যাম্পাসসংলগ্ন শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান। কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে দলীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত একটি পক্ষের ৮ থেকে ১০ জন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন আহতরা। এ সময় হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র ছিল বলেও দাবি তাদের।
আহত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, তার বয়স ৬১ বছর। হামলাকারীরা তাকে রড ও লাঠি দিয়ে মাথা ও পায়ে আঘাত করেছেন। এতে তার মাথা ফুলে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে।
আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, সমাধিতে ফুল দেওয়ার কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকেই স্থানীয় থানা-পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছিল। কর্মসূচিস্থল ও আশপাশে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু হামলার সময় তারা কার্যকর ভূমিকা নেননি।
তিনি বলেন, আমরা ফুল দিতে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়েছিলাম। সেখানে পুলিশও ছিল। কিন্তু হামলা শুরু হলে তাদের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলার জন্য রাউজানের সংসদ সদস্য (এমপি) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন, যুবদল নেতা মো. আনোয়ার পারভেজ রানা, মো. তসলিম উদ্দিন, ইমরানসহ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন আনোয়ার হোসেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, কার কাছে যাব বিচার চাইতে? এত বছর ধরে দল করছি, ৬১ বছর বয়সে এসে রাজপথে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দরবারেই এর বিচার রেখেছি।
তিনি জানান, হামলার পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে গেছেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিকেল ৩টার দিকে চুয়েট এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছুটা হইচই ও বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে কোনো পক্ষই থানায় আসেনি।
