জামায়াত এমপির রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুরে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।
নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার একটি ব্যানার হোটেল নির্মাণের জায়গায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যানারে লেখা রয়েছে, এই স্থাপনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাসুদ সাঈদী। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ওয়েবসাইটে আজ রাত আটটার সময় ঢুকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ সাঈদীর ছবি ও নাম রয়েছে।
ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বিনিয়োগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার–প্রচারণা রয়েছে। প্রচারণায় এ প্রকল্পকে বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম বলে দাবি করা হয়। মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে এই প্রকল্পের শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা এবং স্থাপনা নির্মাণ আইন অনুসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত ভবন নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তা ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে এই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া আছে। এ কারণে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি বর্তমান বিএস জরিপে কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন।
এদিকে এ জমির মালিকানা দাবি করে কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাখাইন উমাচ্যান দেওয়ানি আদালতে একটি মামলা করেছেন। তিনি দাবি করে বলেছেন, এ জমির মালিক তাঁর দাদা চিথাও ও নাথাও।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুদ সাঈদীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
