ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের রায় অমান্য করে একতরফাভাবে জমি দখল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বারকাত আলী নামে এক ভুক্তভোগী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার লেহেম্বা ভবানিপুর এলাকার বাসিন্দা বারকাত আলী অভিযোগ করেন, তাঁর বৈধভাবে ক্রয়কৃত ৭৫ শতাংশ ফসলি জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানের জন্য জোরপূর্বক দখল করিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় এমপি। ভুক্তভোগীর দাবি, স্বাধীনতার আগ থেকে অদ্যবধি ভোগদখলীয় জমি ২০১৩ সালে হিন্দুরা তাদের শ্মশান হিসাবে দাবি করেন। সে সময় থেকে চলা এই জমি বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা (নং ৩৭/১৩) করলে ২০১৮ সালে তাঁরা ডিক্রি পান এবং আদালতের মাধ্যমে জমির একাংশের দখল বুঝে পান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, দখল নিয়ে পুনরায় ঝামেলা হলে স্থানীয় এমপির নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বসা হলেও প্রতিপক্ষ (শ্মশান কমিটি) কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। বিষয়টি এমপি জাহিদুর রহমানকে জানানো হলে তিনি আদালত বা এসিল্যান্ডের কোনো রায়ই মানবেন না বলে জানিয়ে দেন।
বারকাত আলীর অভিযোগ, এমপির নির্দেশ ও ভবানীপুর এলাকার নিতাই, সৌরভ, বসন্তসহ অনেকে জোটবদ্ধ হয়ে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এই জমি দখল নেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা চালালে বাধা দেওয়ায় তাঁর ছেলে ও ভাতিজার ওপর হামলা চালানো হয়। বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তারহীনতায় ভুগছেন। তারা সরকারের উচ্চমহলে এর সঠিক প্রতিকার কামনা করেছেন।
জানা গেছে, বিট্রিশে জমির শ্রেণী শ্মশান ও দলা উল্লেখ্য করা থাকে। তবে রেকর্ড হয় হাবিল মোহাম্মদের নামে। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকারের সময় এসএ রেকর্ডে দলা হিসাবে রেকর্ড হয়। সর্বশেষ আরএস জরিপে জলাশয় হিসাবে রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের শ্মশান হিসাবেই জোর করে দখল রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
