পদ্মার চরাঞ্চলে অভিযানে এমপির ওপর হামলা, আটক ৪৫
শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে মা ইলিশ রক্ষার সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেলের আকস্মিক তোপ সামলে সেনাবাহিনী ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় চালানো যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ৪৫ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের মধ্যে ৪০ জনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে জাজিরা উপজেলার পালেরচর এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার তৌহিদুর রহমান ও জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সকালে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সমন্বিত অভিযানে নামেন মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অভিযানে যুক্ত ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলামও। পালেরচর এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল জেলেকে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করতে দেখে অভিযান পরিচালনাকারী দল বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নদীর চরাঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ জন জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আচমকা অভিযানকারী দলের ওপর চড়াও হয়।
এ সময় সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার স্পিডবোট এবং বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানকারী দল সাময়িকভাবে পিছু হটে।
পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনী ও নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। তাদের দেখে চরাঞ্চলের দিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। তবে, যৌথ বাহিনীর চারদিকের ঘেরাও ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং একে একে ৪৫ জনকে আটক করা সম্ভব হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানে তিন লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
এবিষয়ে শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের সুযোগ নিয়ে অসাধু জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে আগ্রাসী মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে যৌথ বাহিনীর সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, বিষয়টিকে আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখছি না। মূলত সরকারি আইন বাস্তবায়ন ও মা ইলিশ রক্ষার অভিযান প্রতিহত করতেই তারা এ ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিবন্ধিত প্রকৃত জেলেদের বাইরে কিছু অসাধু চক্র বেআইনিভাবে নদী থেকে ইলিশ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
