পেটের ভেতরে ২ হাজার ৩০০ ইয়াবা, র্যাবের হাতে ‘মাদক কারবারি’
ছবি সংগৃহীত
মাদকের চালান বহনে একের পর এক নতুন কৌশল ব্যবহার করছে কারবারিরা। এবার কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে খুলনায় নেয়ার সময় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে র্যাবের হাতে ধরা পড়েছে এক মাদক কারবারি। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার পেট থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায় র্যাব-৬-এর সদর কোম্পানি (ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প) এবং র্যাব-১০ সিপিসি-৩, ফরিদপুরের যৌথ আভিযানিক দল। এ সময় খুলনাগামী দোলা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা বিশেষ কৌশলে পেটের ভেতরে বহন করে ঢাকা হয়ে খুলনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। তার স্বীকারোক্তির পর বাসের চালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীদের উপস্থিতিতে তাকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষা করলে তার পেটে ইয়াবা বহনের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনের পর কিছু সময়ের মধ্যে মলের সঙ্গে পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ইয়াবাগুলো জব্দ করে র্যাব।
র্যাব-৬ এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিনব কৌশলে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের মাধ্যমে এসব চক্রকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, জব্দ করা ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাশিয়ানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতেও তদন্ত চলছে।
