শ্মশানের পাশে ফেলে যাওয়া অন্ধ ঘোড়াকে বাঁচালেন সাতক্ষীরার কলেজছাত্র সোহান
সাতক্ষীরায় শ্মশানের পাশে ফেলে যাওয়া একটি অন্ধ ঘোড়াকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছেন কলেজছাত্র সোহান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াটিকে তার মালিক ‘অন্ধ ঘোড়া আর কোনো কাজে আসবে না’ ভেবে ফেলে রেখে যান। তীব্র গরম ও ক্ষুধায় আধমরা অবস্থায় পড়ে থাকা ঘোড়াটিকে ঘিরে উৎসুক জনতা ভিড় করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোডে ব্যস্ত ছিলেন।
সেই ভিডিও দেখে এইচএসসি পড়ুয়া সোহান দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি থাকলেও সোহানের আকুলতায় সাড়া দেন তার মা-বাবা। পরে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি জানান, ঘোড়াটির দুটি চোখই চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমেও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
চিকিৎসকের এমন বার্তার পরও হাল ছাড়েননি সোহান। তিনি বলেন, ‘দুচোখ অন্ধ হলেও এটা তো একটা জীবন্ত প্রাণী। চোখের সামনে একটা প্রাণ এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারি না। তাই নিজের দায়িত্বে ওকে বাড়িতে এনেছি। যতদিন বাঁচবে, আমরা ওর যত্ন করব।’ সোহানের বাবা নাঈম হোসেন বলেন, ‘ছেলের জেদ আর ইচ্ছার কারণেই ঘোড়াটিকে আমরা বাড়িতে জায়গা দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি প্রাণীটির দেখাশোনা করার। মানুষ হিসেবে যেকোনো অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’
সোহানের এই ব্যতিক্রমী ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় নড়ে চড়ে বসেছেন স্থানীয়রা। এলাকার অনেকেই এখন সোহানকে দেখতে এবং তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের মতে, সোহানের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে হারিয়ে যাওয়া মানবতা, সহানুভূতি এবং প্রাণিকুলের প্রতি সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
