মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে কিশোরী আহত
সংগৃহীত
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক কিশোরী আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
১০ বছর বয়সী আফনান হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার জসিম উদ্দীনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় সীমান্তের ওপার থেকে আসা একটি গুলি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় আঘাত হানে। এতে এক কিশোরী আহত হয়। মেয়েটির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে মাছ ধরার সময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে মো. আলমগীর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি জেলে আহত হন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আজ ভোরেও কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।”
আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর মো. আলমগীর ও আরেক জেলে মো. আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইচ্ছর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত ভেদ করে একটি গুলি বেরিয়ে গেছে।
পরে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় আলমগীরকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।শিশুটির সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের বরাতে তার দাদা আবুল হাসেম বলেন, নাতনির সঙ্গে থাকা তার ছেলে শওকত জানিয়েছে বেলা ১২টার পর তারা উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছে।
