সিরাজগঞ্জে ১ বছর ধরে নেই জলাতঙ্ক ও সাপের ভ্যাকসিন, ঝুঁকিতে দুস্থ রোগীরা
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় প্রায় এক বছর ধরে জলাতঙ্ক ও সাপের ভ্যাকসিন নেই। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা।
জেলা ভ্যাকসিন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, “আমরা গত এক বছর ধরে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাচ্ছি না। এতে উপজেলার পল্লী এলাকার দুস্থ মানুষগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। শুনেছি সদর হাসপাতালে কয়েক মাস পরপর চার-পাঁচ শ ভ্যাকসিন আসে, যা দুই-তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়।”
জানা যায়, জেলায় প্রতিদিন সাড়ে তিনশ থেকে চারশ কুকুর, বিড়াল ও সাপের ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়।
সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিশ থেকে পঁচিশ জন জলাতঙ্ক রোগী ভ্যাকসিন নিতে এসেছেন।
কাজিপুর উপজেলা থেকে আসা রোগীর স্বজন জুরান আলী বলেন, “আমার ছেলেকে কুকুর আঁচড় দিয়েছে। এ সময় কাজিপুর উপজেলা হাসপাতালে গেলে তারা সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এসে দেখি এখানে সবাই ভ্যাকসিন বাইরে থেকে কিনে এনে দিচ্ছে।”
সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে আসা আমেনা খাতুন জানান, “মেয়েকে বিড়াল আঁচড় দিয়েছে। বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে দিয়েছি।”
ভ্যাকসিন বিভাগের দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স ফাহিমা খাতুন বলেন, “প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীরা বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসছে, আমরা তা ব্যবহার করছি।”
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, “জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে হাসপাতালে রোগীদের সহযোগিতায় সকল প্রকার কাজ করা হচ্ছে।”
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আকিকুর নাহার ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, “প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের চাহিদাপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
