কুড়িগ্রামে নারী কৃষক ও তাঁত সেন্টার পরিদর্শন করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
কুড়িগ্রামে সরকারি কাজের মধ্যেই স্থানীয় উদ্যোগে পরিচালিত তাঁত প্রোডাকশন সেন্টার পরিদর্শন এবং নারী কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সোমবার বিকেলে তিনি এসব কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোক্তাদির খান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, এবং বেসরকারি সংস্থা এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি)-এর নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন প্রমুখ।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এএফএডি কর্তৃক পরিচালিত সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় গ্রামের ৬০ জন নারী কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি বন্যা-প্রবণ এলাকায় কৃষি ও জীবিকাকে আরও টেকসই ও স্থায়িত্বশীল করার বিষয়ে সমাধান খুঁজতে নারী কৃষকদের মতামত নেন। প্রান্তিক নারী কৃষকরা তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপদেষ্টাকে অবগত করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি নারীদের উৎপাদিত বস্তায় আদা চাষের প্লট, বীজ বপন ও বেড পদ্ধতিতে সবজিচাষ, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন কার্যক্রম এবং প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এরপর তিনি এএফএডি সংস্থার তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রোডাকশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রান্তিক নারীরা তাঁত মেশিনে বিভিন্ন ধরনের কাপড় তৈরি, পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করেন। নারীদের আত্মনির্ভরশীল উদ্যোগ দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন উপদেষ্টাকে জানান, সংগঠনটি কুড়িগ্রাম জেলায় স্থানীয় পর্যায়ের নারী উন্নয়ন কাজে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তারা কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় জাতের সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ বলেন, “কুড়িগ্রামের নারী কৃষকরা শুধু ফসল উৎপাদনেই নয়, পরিবার ও সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তাদের কাজকে টেকসই করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে সমন্বয় করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন সবসময় এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।”
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “আজ এখানে এসে আমি গর্বিত। আমি দেখেছি কিভাবে নারী কৃষকরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে বস্তায় আদা চাষ, পুকুরে মাছ চাষ, ভার্মি কম্পোস্ট ও তাঁতকেন্দ্রিক আয়বর্ধক কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। নারী কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বন্যার ক্ষতি, টেকসই আশ্রয়ের অভাব, বাজারজাতকরণে সমস্যা—এসব সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই, প্রতিটি নারী কৃষক শুধু শ্রমিক নয়, উদ্যোক্তা ও নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এজন্য প্রয়োজন সরকারি দপ্তর, বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কাজ করছি যাতে নারী কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, বাজার সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এএফএডি’র মতো সংস্থাগুলো এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সরকারি দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহবান জানাই, যাতে নারী কৃষকদের জন্য সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে।”
