লালমনিরহাটে ঝুঁকি নিয়ে স-মিলে কাজ করছেন শতশত শ্রমিক
লালমনিরহাট জেলা শহর ও এর আশেপাশে অবস্থিত স-মিলগুলোতে অরক্ষিত অবস্থায় কোনো প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ছাড়াই কাজ করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। ধারণা করা হচ্ছে যে গোটা দেশের অবস্থা একই। আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা অঙ্গহানি হলে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ পান কিন্তু অন্য কোনো খরচ মালিক পক্ষ দেয়া হয় না বলে অভেযোগ শ্রমিকদের।
মালিকরা বলছেন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিংবা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বন বিভাগ থেকে কোন নির্দেশনা দেয়া নেই।
লালমনিরহাট বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, লাইসেন্সে এমন কোন শর্ত নেই তবে শ্রমিকের চিকিৎসা খরচ বা অন্যান্য খরচ বহনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মিল মালিকের।
লালমনিরহাটের সাকোয়া এলাকার একটি স’মিলের শ্রমিক (মিস্ত্রী) মজিদুল বলেন, ‘আমি ২৮ বছর থেকে এই কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আমার একটি আঙুলের কিছু অংশ কাঁটা পরে। এর ফলে আমি ৬ মাস ১৫ দিন বাসায় বেকার অবস্থায় বসে থাকি। আমার মালিক শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা খরচ দেয়। কিন্তু আমি যে ছয় মাস বসে ছিলাম সেসময় তারা আমাকে কোন সহযোগিতা করেন নি। আমাকে খুব কষ্টে সংসার চালাতে হয়েছে।
মজিদুল আরও বলেন, ‘আমার জানামতে সমিলে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে যেমন, বেশ অনেকদিন আগে ভেলাবাড়িতে একজন শ্রমিকের ৩ টি আঙুল কেটে যায়। ফুলগাছ স’মিলের সুলতান মিস্ত্রীও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এছাড়াও সাপ্টিবাড়ী ডাক্তারের সমিলে আরেক শ্রমিকের দুটি আঙুল কেটে যায়। এরকম অহরহ ঘটনা ঘটে কিন্তু আমাদের দেখার কেউ নেই’।
শহিদুল ইসলাম নামের একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ধরে কাজ করি কিন্তু কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য কি সরঞ্জাম লাগে তা আমরা জানিও না কিংবা মালিকও দেয় না। আমার জানামতে গত কয়েক বছরে অনেক এক্সিডেন্ট হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আমাদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত’।
সমিলে কাঠ কাটাতে আসা ফুলগাছের মো. আব্দুর রাকিব বলেন, ‘আমি স-মিলে কাজ করি না কিন্তু আমার পরিচিত দুইজন মিস্ত্রী সুলতান ও আব্দুর রহমান দুর্ঘটনায় হাতে জখমের শিকার হয়েছিল। এছাড়াও আমার ভাই মো. কাশেমের ব্লেড দিয়ে ৩টি আঙুল কেটে গিয়েছিল। কাচু নামে আরেকজন শ্রমিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১ বছর বাসায় বেকার অবস্থায় বসে ছিল। কিন্তু মালিক শুধু তার চিকিৎসা খরচ দিয়েছিল’।
সমিল মালিক শুক্কুর আলী বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে সুরক্ষার বিষয়ে কিংবা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেয়া নাই। আমরা বহু বছর থেকে এভাবেই মিল চালিয়ে আসছি। আমরা আসলে এ বিষয়ে কি করতে হবে তা বুঝিও না বা জানিও না। তবে বন বিভাগ যদি কোন নির্দেশনা দেয় তা আমরা মেনে চলবো’।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটায় দিকে লালমনিরহাট বন বিভাগ অফিসে গিয়ে কর্তব্যরত কাউকে পাওয়া যায় নি। পরে লালমনিরহাট সামাজিক বনায়ন, নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে তার মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে লাইসেন্স নেয়ার আগে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমোদন নিতে হয়। আমার জানামতে লাইসেন্সে শুধু ফায়ার সেফটির বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয় না’।
একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোন এক্সিডেন্ট রেকর্ড বা তথ্য সংরক্ষণ করি না। তবে কেউ আমাদের জানালে তখনই বিষয়টি জানি। আর শ্রমিকের চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচ মিল মালিকদের ওপর নির্ভর করে’।
