রাজশাহীতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশু পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়ছে। অন্যজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিরা পদ্মা নদীর তলদেশ সন্ধান চালাচ্ছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পৌরসভার রেলবাজার খেয়াঘাট এলাকায় দুই শিশু ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রোববার বেলা ৩টার দিকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম উসমান আলী (১৩)। সে উপজেলার মহিশালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের ওমর আলীর ছেলে। নিখোঁজ শিশুর নাম সুলতান মুহাম্মদ সাইফ (১৫)। সে একই গ্রামের প্রবাসী নাসির উদ্দিনের ছেলে। এ দুই শিশুই মহিশালবাড়ি আল-ইসলাহ ইসলামী একাডেমীর ছাত্র।
স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে আল-ইসলাহ ইসলামী একাডেমীর পাঁচ শিক্ষার্থী উপজেলার পদ্মা নদীর ওই খেয়াঘাটে গোসল করতে নামে। এ সময় দুজন ডুবে যায়।
পরে অন্য তিনজনের কান্নাকাটির আওয়াজ পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। তারা নদী থেকে উসমান আলীর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে সাইফকে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দপ্তরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনজন ডুবুরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোববার দুপুর ১টা থেকে পদ্মা নদীর তলদেশে শিশুর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন বলেন, গোসল করেতে নেমে ওই দুই শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। এর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দপ্তরের ডুবুরি ইউনিটের লিডার আবদুর রাজ্জাক জানান, নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে পেতে উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানান। এদিকে চলতি এপ্রিলেই রাজশাহীতে পানিতে ডুবে শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর শ্যামপুর বালুঘাট এলাকায় পদ্মায় ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়। আর এই তিনজনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ছিল।
এরও আগে গত ২১ এপ্রিল পবার হরিপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে এক কিশোর ও এক তরুণের মৃত্যু হয়। তার আগের দিন ২০ এপ্রিল বাঘা উপজেলায় পদ্মায় গোসল করতে নেমে এক কিশোর ডুবে মারা যায়। ১৯ এপ্রিল এই একই উপজেলায় এক শিশু পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা যায়। এছাড়া গত ১৪ এপ্রিল বাঘায় আরও দুই শিশু পদ্মা নদীতে ডুবে মারা যায়। সর্বশেষ আজ রোববার দুজন শিশু তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। আর মোহনপুরের দুজন শিশু ছাড়া অন্যরা সবাই তীব্র গরমে স্বস্তি পেতেই পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমেছিল।
