কুয়াকাটা কমিশনারের বিরুদ্ধে শালিস বাণিজ্যের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার কমিশনার ডাঃ মোঃ তৈয়বুর রহমানের বিরুদ্ধে শালিস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠছে। একই এলাকার মোঃ বারেক শরিফ নামে এক গরীব জেলেকে শালিসিতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বলে জানা যায়।
গত বুধবার সন্ধ্যায় কমিশনার নিজ বাড়িতে শালিস বৈঠকে এই জরিমানা এবং নগদ আদায় করেন। এ যেন তার নিজের মনগড়া আদালতের রায়। যেখানে সে নিজই বিচারক।
জানা যায়, পাশের ওয়ার্ডের ১৩ বছরে এক মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায় বারেক শরিফের ছেলে মেহেদী (১৮)। এ ঘটনা মেয়ের বাবা থানায় মৌলিকভাবে অভিযোগ করেন। পরে মহিপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বরগুনা থেকে ছেলে মেয়েকে উদ্ধার করে।
মেয়ের বাবা কোনো লিখিত অভিযোগ না করায় থানার ওসি ছেলে মেয়েকে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরের দিন কমিশনার থানা পুলিশের খরচের কথা বলে ছেলে বাবাকে নিজ বাড়িতে ডাকে। পরে শালিসিদের উপস্থিতিতে তিনি এই জরিমানা করে নগদ অর্থ আদায় করেন।
বারেক শরিফ বলেন, থানা পুলিশ আমার ছেলে ছেড়ে দিলো কিন্তু কমিশনার শালিসে ডেকে মামলার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদ আদায় করেন। আমি গরীব মানুষ, মহাজনের কাছ থেকে ধারে এনে ভয়ে টাকা দিয়ে দিই। শালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- মাহাবুব আকন, শাহআলম খলিফা প্রমূখ।
কমিশনার ডাঃ মোঃ তৈয়বুর রহমান বলেন, থানা থেকে আমাদের শালিস মানিয়ে দিছে। মেয়ের বাবা খরচের টাকা দেওয়া জন্য বলা হয়েছে। আদায়কৃত টাকার ১৫ হাজর থানায় এবং ১৫ হাজার মেয়ের বাবাকে দেওয়া হয়েছে।
মেয়ের বাবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। মহিপুর থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, মেয়ের বাবার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমার ছেলে মেয়ে উদ্ধার করি। কিন্তু মেয়ে বাবা লিখিত অভিযোগ না দেওয়া তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আমাদের কোনো টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি এবং কারও নিকট টাকার জন্য বলিও নি। এটা তারা গ্রামে বসে কর করছে তাতো আমরা জানি না।
