আলমডাঙ্গার ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সংস্কার হবে কবে?
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পৌর শহরের প্রবাহিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জিকে খালের সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেয়ার পরেও ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। তবু আজ পর্যন্ত সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
সেতুটি নির্মাণের পর থেকে গত ৫০ বছরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাড়িয়ে আছে। সেতুর ছাদ ও পিলার দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেতুর নিচের অংশের প্লাস্টার খসে পড়ছে। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে আলমডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কের কালিদাসপুর এলাকায় জিকে খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয়। ওই সময় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি নির্মাণ করে। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা কুষ্টিয়া হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পায় তেমন সড়ক পথওঅনেকাংশে কমে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির বেহাল দশা। মানুষ হেঁটে চলাচল করছে। ছোট ছোট ব্যাটারি চালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও লাটাহাম্বা সহ মোটরসাইকেল চলাচল করছে। ভারী কোনো যানবাহন উঠলেই সেতুটি কেঁপে উঠছে। শহরে প্রবেশ করতে ১০০ মিটার সড়কের জন্য দুই কিলোমিটার সড়ক ঘুরতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ২০১৯ সালে সেতুর প্রবেশপথের দু’প্রান্তে খুঁটিতে লাল ফ্লাগ টাঙিয়ে ও স্টিল প্লেটে রং দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেটিও সময়ের ব্যবধানে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
আলমডাঙ্গা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মজিবুল হক জানান, ‘শহরে সড়কপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেতু থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরেই উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত। এ শহরে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ সর্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ
অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শতাধিক সবজি, পান ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য বোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহণ রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। এছাড়া এই সেতু ব্যবহার করে কালিদাসপুর ইউনিয়ন ও পাশ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানাধীন পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরে আসতে হয়। কিন্তু সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বাস ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জানান, গত কয়েক বছর আগে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। একারণে ভারী কোনো যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে পারে না। শহরে ভারী যানবাহন ঢুকতে হলে এখন দুই কিলোমিটার সড়ক ঘুরতে হয়। তিনি দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের দাবি জানান।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, আমরা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি এবং একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পাইপলাইনে রয়েছে। প্রকল্পে বরাদ্দ পাশ হলেই আমরা সেতুটির কাজ শুরু করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বে সেতুতে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। আবারো ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড টাঙানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
