তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি পেশ
লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন। পরে ওই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে একটি লিখিত স্বারকলিপি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আরিফুল হকের কাছে হস্তান্তর করেন।
‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ এর স্বারকলিপিতে উল্লেখিত ৬ দফায় দাবিগুলো হল,
(১) তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, অভিন্ন নদী হিসেবে ভারতের সঙ্গে ন্যায্য হিস্যার ভিত্তিতে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন, তিস্তা নদীতে সারাবছর পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে জলাধার নির্মাণ করা।
(২) তিস্তা নদীর শাখা- প্রশাখা ও উপ-শাখাগুলোর সাথে নদীর পূর্বেকার সংযোগ স্থাপন ও নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা।
(৩) তিস্তা মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদী ও তিস্তা তীরবর্তী কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় কৃষক সমবায় এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা।
(৪) তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ। নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীন, গৃহহীন ও মৎস্যজীবীসহ উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসন।
(৫) ভূমিদস্যু ও কর্পোরেট কোম্পানির হাত থেকে দখলকৃত তিস্তাসহ, তিস্তার শাখা-উপনদী দখলমুক্ত করা। নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(৬) তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রকল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা পাড়ের মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তাগণ তিস্তা পাড়ে বসবাসকারী মানুষদের জীবন ও জীবিকা সচল রাখতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
মানববন্ধন ও স্বারকলিপি হস্তান্তর কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন গেরিলা লিডার এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, অধ্যক্ষ আমিরুল হায়াত আহমেদ মুকুল, অ্যাডভোকেট চিত্ত রঞ্জন রায় মন্টু, অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান, আনিছুর রহমান লাডলা, তৌহিদুল ইসলাম লিটন, দিপক মন্ডল এবং সুফী মোহাম্মদসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
