১১ কিলোমিটার ভাঙা সড়কে আনন্দ বিলীন পর্যটকের, লোকসানে আড়তদার
ভাঙাচোরা সড়কে যেন সম্পূর্ণ বিনোদন ও উচ্ছ্বাস বিলীন হয়ে যায় কুয়াকাটা আগত পর্যাটকদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমন পিপাসুদের মধ্যে পটুয়াখালী পরে কলাপড়া পর্যন্ত খুবই উল্লাস ও সমুদ্র দেখার আকাঙ্খা বিরাজমান থাকে। কলাপাড়া পার হয়ে যখনই পাখিমারা বাজারে গাড়ির চাকা পড়ে ভাঙ্গা ও গর্তে ভরা রাস্তার ঝাকুনিতে তখন কোথায় যেন বিলিয়ে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।
জানা যায়, পটুয়াখালী সদর থেকে সমুদ্র কন্যা কুয়াকাটার দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। কলাপাড়ার পাখিমারা বাজারের আগে সমস্ত সড়ক বেশ চওড়া ও খুবই ভালো। কিন্তু পাখিমারা বাজার থেকে আলিপুর তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থা। ছোট- বড় গর্ত আর খানাখন্দ পুরোই রাস্তাই।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০০৯ সালে ২২ কিলোমিটার সড়ক নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ২২ কিলোমিটার সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজ করে দি রুপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এই ক্ষত-বিক্ষত সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দূর্ভোগের শেষ থাকে না পর্যাটকের। ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে। ভয় ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে পর্যাটক ও স্থানীয়দের। এছাড়া চূর্ণ-বিচূর্ণ সড়কের ফলে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে মৎস্য ব্যবসায়ীরা। আলীপুর ও মহিপুর দেশে বৃহৎ মৎস্য বন্দর। বঙ্গোপসাগরে হাজার হাজার জেলেরা তাদের শিকার করা মাছ নিয়ে আসে এই মৎস্য বন্দরে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায়সহ বিদেশে রপ্তানি হয় এসমস্ত মাছ। কিন্তু ভাঙা সড়কে ফলে সময়মতো মাছ নিয়ে পৌঁছাতে না পাড়াতে অনেক সময় মাছ পঁচে যায় বলে জানান মৎস্য বন্দরের আড়তদাররা।
আগত পর্যটক মো. কাইয়ুম ও আবদুল ওয়াদুদ সিকদার বলেন, আমরা প্রায়ই কুয়াকাটা আসি। পাখিমারা পরে আলিপুর তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়ক খুবই বাজে। এত পরিমাণ গর্ত গাড়ির ঝাকুনিতে আমার মাজা কোমর সব এক হয়ে যায়। সমস্ত শরীর ব্যাথা ভরে যায় এই রাস্তাটুতে। আনন্দ টা পুরোই মাটি হয়ে যায়। আমাদের টাকাগুলোই জলে চলে যায়।রাস্তাটি যদি সংস্কারে ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে দিনে পর্যাটকরা কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।
বাস ড্রাইভার মো. মিজানুর রহমান বলেন, পাখিমারা থেকে আলিপুর তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সবজায়গা দিয়ে রাস্তাটি ভাঙ্গা আর গর্ত। এই রাস্তা দিয়ে আমাদের গাড়ি ডানে বামে করে জামালে হয়।কবে যে এই রাস্তটি হবে? গাড়ি ঝাকুনিতে পর্যাটকরা খুবই অস্তিত্ব বোধ করে।
অটোচালক নিজাম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আসার সময় ধাক্কায় ধাক্কায় প্রায় গাড়ি থেকে যাত্রী পড়ে যায়। ৫-৬ বছরের ও বেশি সময় ধরে ভাঙ্গা চুড়া অবস্থায় রয়েছে। এই রাস্তাটি হওয়ায় খুবই দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, এই রাস্তাটুকুর খুবই বেহাল অবস্থা। এত গর্ত হয়েছে বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কত ভিআইপি ব্যক্তিরা যাওয়া আসা করে কিন্তু কেউই রাস্তটি সংস্কারের কোন পদক্ষেপ নেয় না।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী এএম আতিক উল্লাহ জানান, পাখিমারা বাজার থেকে আলিপুর তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।
