ছাত্রীর সাথে প্রেম, প্রভাষক ও কর্মচারী বরখাস্ত
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের অভিযোগে এক প্রভাষকসহ চতুর্থশ্রেণির এক কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের তদন্ত ঠিম গঠন করেছে।
তদন্ত টিম অভিভাবক ও অভিযুক্ত প্রভাষক ও চতুর্থশ্রণির ওই কর্মচারীর জবানবন্ধি রের্কড করে ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে রির্পোট দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রীদের অভিভাবক ও শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি প্রভাষক খাইরুল বাশারের সাথে ওই কলেজের ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মানবিক বিভাগের এক ছাত্রীর প্রাইভেট পড়ার সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পযার্য় উভয়ের মাঝে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে উঠায় বিভিন্ন আত্বীয়র বাড়ীতে গোপনে যাওয়া আসা করতো তারা।
এর মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামে ওই কলেজের চতুর্থশ্রেণি কর্মচারীর জিয়া হায়দার জুলিয়াসের বাড়ি ছাত্রী প্রভাষক উপস্থিত হন। এতে সন্দেহ হলে মেয়ের অভিভাবককে খবর দেন এলাকাবাসী।
পরে মেয়ের স্বজনরা ওই বাড়িতে হামলা করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য কৌশলে প্রভাষক খাইরুল বাশার বিয়ে করার জন্য নিয়ে এসেছে বলে উপস্থিত জনতাকে জানায়। তারপরেও মেয়ের স্বজনরা ওই প্রভাষকে মারপিট করে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে আসে। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
প্রভাষক খাইরুল বাশারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে চতুর্থশ্রেণি কর্মচারীর জিয়া হায়দার জুলিয়াস জানান আমার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য এসেছে। এর মধ্যে বিশৃঙ্লা সৃষ্টি হয়। স্যারকে মারপিট করে মেয়েকে নিয়ে যায়।
তদন্ত ঠিমের আহবায়ক ও ফুলবাড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ জানান তদন্ত করাজর জন্য চিঠি এখনো হাতে আসেনি। চিঠি পেলে সকল সদস্যকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হবে।
ফুলবাড়ি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম রিজু জানান, অভিভাবকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ওই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আজিজার রহমান মাস্টার জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কথা বলে আমরা সাময়িকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। এর মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
