ভাতিজার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে চাচার সংবাদ সম্মেলন
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রাকিবুজ্জামান আহমেদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার আপন চাচা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুজ্জামান আহমেদ।
সম্পদের তথ্য গোপন এবং সরকারি বেতন-ভাতার সুবিধা নেয়ার বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ না করায় ভাতিজার প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। আর প্রমাণস্বরূপ সম্পত্তির দলিলসহ অন্যান্য নথিপত্রও দাখিল করেন মাহবুবুজ্জামান আহমেদ।
কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা তার আবেদন আমলে না নিয়ে রাকিবুজ্জামান আহমেদের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করায় তিনি তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। মাহবুবুজ্জামান আহমেদ অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তা অবৈধ মনোনয়নটি বাতিলের সাহস পাননি।
মঙ্গলবার বিকালে লালমনিরহাট জেলার নর্থ কিং রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘জনাব রাকিবুজ্জামান আহমেদ নির্বাচনী হলফনামায় ২০১৩ এর ১৭ নির্বাচনী বিধির উপবিধি(৩) এর দফা (ঙ) অনুসারে এর সমর্থনে জমি ক্রয়ের দলিল এবং সরকারি বেতন উত্তোলনের তথ্য গোপন করেছেন। যা পরিপত্র (৭) এর ৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমার দাখিলকৃত প্রমাণ ও তথ্যাদি অনুসারে প্রার্থী রাকিবুজ্জামান আহমেদের মোট জমির পরিমাণ ৪২.২৩ একর, তন্মধ্যে প্রার্থী ১৬.৬৫ একর জমির বিবরণ উল্লেখ করেছেন। অবশিষ্ট ২৫.৫৮ একর জমি যার মূল্য ১,৪৬,৮৫,০০০/-(এক কোটি ছেচল্লিশ লক্ষ পঁচাশি হাজার) টাকা প্রার্থী তার দাখিলকৃত হলফনামায় উল্লেখ করেন নাই। প্রার্থী স্বয়ং জ্ঞাতসারে তথ্য গোপন করেছেন এবং তিনি সরকারী কলেজ থেকে প্রভাষক পদে চাকুরির এক বছরের প্রাপ্ত বেতন বাবদ ৩,৩৪,৩২৪/-(তিন লক্ষ চৌত্রিশ হাজার তিনশত চব্বিশ) টাকা উত্তোলন করেছেন। যা প্রার্থী তার হলফনামায় উল্লেখ করেন নাই। প্রার্থী জ্ঞাতসারে দাখিলী হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। যা নির্বাচনী বিধি মালা ২০১৩ (১৭) এর বিধি উপবিধি ৩ এর ধারা মোতাবেক সুনির্দিষ্ট অপরাধ। যার ফলে প্রার্থীর দাখিলী মনোনয়ন পত্র বাতিল হবে মর্মে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার আবেদন আমলে না নিয়ে রাকিবুজ্জামান আহমেদকে বৈধ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন। নির্বাচনী আইনে বলা আছে, তথ্য গোপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দু-এক একর নয়, ২৫ একর জমি তিনি হলফনামায় দেখাননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করবো এবং বিষয়টি নিয়ে দুদকের কাছেও যাবো।
প্রার্থী তার ভাই লালমনিরহাট-২ আসনের সাংসদ এবং সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মহোদয় গত সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় তার ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদের কোনো সম্পদ দেখাননি। তাহলে আজ এই ৪০/৪৫ একর জমি কোথা থেকে এলো- এটা আমার প্রশ্ন।’
মাহবুবুজ্জামান অভিযোগের সুরে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘এমপি বলয়ের প্রভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা অবৈধ মনোনয়নটি বাতিলের সাহস পাননি। আমি তাই আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচারের আবেদন করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান, মাহবুবুজ্জামান আহমেদের আইনজীবী রাজা মিয়াসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
