তীব্র গরমে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ
চলমান তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। উত্তাপ ছড়াচ্ছে সূর্য। তাপমাত্রা ৪০ পেরিয়ে ৪১ ডিগ্রি ছুইছুই। এতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন প্রায় ১০০ রোগী। শয্যার অতিরিক্ত রোগী থাকায় হাসপাতালটিতে মেঝে আর বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। চিকিৎসকরা বলছেন, চলমান তাপদাহ অব্যাহত থাকলে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা।
২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরেই ধারাবাহিকভাবে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের ৭০ শতাংশই শিশু। হঠাৎ করেই রোগী বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের বারান্দা বা করিডোরের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছেন। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বেশিরভাগই শিশু।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- প্রতিদিন শতাধিক রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা তুলনামূলক খারাপ, তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। জেলা হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র ১০টি। ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ড মিলিয়ে জায়গা না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দাতেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে ৮ মাসের শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন বালুগ্রামের কারিমা খাতুন। তিনি জানান, বাড়িতে প্রচন্ড গরম। এই গরমের কারণেই বাচ্চার ডায়রিয়া হয়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখে হাপসাতালে নিয়ে আসেন। দুদিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাদের।
আব্দুল আওয়াল নামে আরেক অভিভাবক জানান, চিকিৎসকরা নিয়মিত আসেন। সময় নিয়ে রোগী দেখেন। কিন্তু ওয়ার্ডের বাইরে বাচ্চাদের নিয়ে থাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
চিকিৎসকরা বলছেন- কয়েকদিনের চলমান দাবদাহেই ডায়রিয়া রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এ অবস্থা কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের জুনিয়ার কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা দেখছি যে, ডায়রিয়ার প্রকোপটা অস্বাভাবিকহারে বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই পঞ্চাশের অধিক বাচ্চা ভর্তি হচ্ছিল। গত বুধবার থেকে তা বেড়ে শতাধিক হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তরা সুস্থ হচ্ছে। তবে কেউ মারা যায়নি।
তিনি আরও জানান, ‘এ সময় রোটা ভাইরাসসহ জীবানু বেড়ে যায়। যে কারণে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। এ সময় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। বাইরের খাবার একেবারেই দেয়া যাবে না।’
