বিবর্ণ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, জিও ব্যাগ যেন মরণফাঁদ
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত যেন সৌন্দর্যের অপরুপ লীলা ভূমি। এটা সাগরকন্যা নামেই বেশি পরিচিত। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার সর্বশেষ প্রান্তে এর অবস্থান। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যদয়-সূর্যস্ত দেখা যায়। তাই দেশ বিদেশ থেকে প্রতিনিয়ত এই সৈকতে ছুঁটে আসে হাজারও পর্যটক। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখানে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ।
কিন্তু অব্যাহত ভাঙন, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা, সৈকতের জিরো পয়েন্টে জিও টিউব ব্যাগ এবং বিভিন্ন স্পটে পড়ে থাকা মরা গাছে দিনে দিনে বিবর্ণ হচ্ছে কুয়াকাটা, হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য। এছাড়াও কাজ হচ্ছে না মাষ্টারপ্লান অনুযায়ী। নেই কোনো উন্নয়ন। তবে সুনির্দিষ্ট মাষ্টারপ্লানের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তুলতে পারলে এটি হবে বিশ্বের নামিদামি পর্যটন কেন্দ্রের একটি এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
ঈদ ও বৈশাখী ছুটিতে মুখোরিত ছিল কুয়াকাটা। ছুটি শেষে গন্তব্যে ফিরে গেছে আগত দর্শনার্থীরা। কিন্তু সৈকতে রেখে গেছে তাদের ব্যবহারিত উচ্ছিষ্ট। যত্রতত্র পড়ে আছে ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, সিগারেট প্যাকেট ও খাবারের পঁচা অবশিষ্টাংশসহ অসংখ্য আবর্জনা।
গত এক সপ্তাহ যাবৎ পরিস্কার না করায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের এক কিলোমিটার এলাকা এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।
আগত পর্যটকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে কুয়াকাটা সৈকত। বীচে পড়া থাকা ময়লা আর্বজনার দূর্গন্ধে সৈকতে হাটা যায় না। তারপর জিও ব্যাগের ফাঁকা ও গাছের গোড়ালি তো রয়েছে। কষ্ট করে দূর থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসি। কিন্তু আনন্দর চেয়ে দূর্ভোগটাই বেশি হচ্ছে। তাই মাষ্টারপ্লানের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটক আগমন বাড়তে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সমুদ্রের করাল গ্রাসে ক্রমস সাগরগর্ভে বিলীন হচ্ছে সৈকত এলাকা। ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে নারিকেল বাগান ও ইকোপার্কসহ বেশ কিছু স্থাপনা। ভাঙন ঠেকাতে সৈকতের দুই কিলোমিটার এলাকায় দেয়া হয়েছে তিন দফা জিও টিউব ব্যাগ। তবে এসব জিও টিউবই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্তের। এতে সৈকতে গোসলে নেমে ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পর্যটকরা। ঘটছে মৃত্যুর মতো ঘটনো। এই জিও টিউব ব্যাগের ফাঁকে আটকে এ পর্যন্ত শিশুসহ বেশ কিছু সংখ্যক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এছাড়া অব্যাহত ভাঙন এবং বালুক্ষয়ে সৈকতের বিভিন্ন স্পটে পড়ে রয়েছে মরা গাছ ও তার গোড়ালি। ফলে অনেকটা সৌন্দর্য হারিয়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সৈকতে চলতে যেয়ে যেকোন সময় এসব পড়ে থাকা গাছ ও তার গোড়ালে আঘাত পেয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে পর্যটকসহ স্থানীয়রা। হুমকির মূখে রয়েছে মসজিদ, মন্দির, ট্যুরিজম পার্কসহ বহু স্থাপনা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডেরের সাথে কথা বললে তারা জানান, সৈকত স্থায়ী করণের জন্য ১২শ' কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কুয়াকাটা পৌর মেয়র মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং কলাপাড়া নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হাসান বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সৈকত পরিচ্ছন্ন করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে ডাস্টবিন বসানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
