সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমজমাট নিয়োগ বাণিজ্য
পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে জমে উঠেছে নিয়োগ বাণিজ্য। সিভিল সার্জনে চাকরি নিতে লাগছে লাখ লাখ টাকা।
গত ১২ মার্চ প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদনের শেষ তারিখ ১৮এপ্রিল। এ আবেদন কার্যক্রমের মধ্যেই নিয়োগ সিন্ডিকেটটি বিডিং প্রাইজ (পদ ভেদে) ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করার গুঞ্জন ওঠেছে। সে অনুযায়ী প্রায় ২০কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার এক ঘৃণিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন সিভিল সার্জনসহ নিয়োগ সিন্ডিকেট।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ৬টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ দেয়া হবে ১২৪ জনকে। সরকারি চাকরির নামে সোনার হরিন ধরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর লক্ষাধিক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতিরা। এর সদব্যবহার করতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নাটক সাজিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে যাচ্ছে সিভিল সার্জন ডা. কবির হাসান সমন্বয়ের একটি নিয়োগ সিন্ডিকেট।
এ নিয়োগ সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন একই অফিসের কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বরত কর্মচারী বেলাল হোসেন। ওয়ার্ড বয় পদে নিয়োগ প্রাপ্ত বেলাল সিভিল সার্জনের বদন্যতায় অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে পদায়ন লাভ করে তার(সিভিল সার্জনের) শূন্য পদের কোটা নির্ধারণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয়ে অনেক ইউনিয়নকে বঞ্চিত করে তার নিজ উপজেলা গলাচিপায় অধিক শূন্যপদ সৃষ্টি করে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছেন।
এ ছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটের সাংঘর্ষিক কম্পিউটার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে ১২৪ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ প্রার্থীর সাথেই আগাম ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা চুক্তি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চুক্তি হওয়া প্রার্থীর অর্ধেক পরিমান টাকা সিভিল সার্জনের সম্মতিতে জমা নিয়েছেন বিতর্কিত কম্পিউটার অপারেটর বেলাল হোসেন। লিখিত পরীক্ষায় চুক্তি হওয়া সব প্রার্থীর একই কেন্দ্রে সিট দেয়া এবং পূর্বে পরিকল্পনা মোতাবেক তাদের উত্তরপত্র সরবরাহ করা হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৫ লক্ষ টাকা চুক্তিতে ২ জন, বাকিরা ১৫-২০ লাখ বিডিং প্রাইজ নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি হওয়া প্রার্থীর অনুসন্ধানে পাওয়া তালিকায়-কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বরত অফিস সহকারী বেলাল হোসেন দু’ভাই এক বোন ছাড়াও তার নিজ এলাকার তানজিম হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, দুমকি উপজেলার এস এম মোর্তুজা আলী, রবিউল ইসলাম, ইউসুপ হোসেন, সুমাইয়া সুলতানা, সদর উপজেলার আশিক বিল্লাহ, ইস্রাফিল হোসেনসহ প্রায় ৯৫ জন।
এছাড়াও জানা গেছে, তাদেরকে পরীক্ষার কেন্দ্র আলাদা করে দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ড. কবির হাসানকে একাধিকবার ফোন দিলেও সে মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. শ্যামল কান্তি পরিচালক প্রসাশন ড. হারুন অর রশিদের সাথে কথা বলার জন্য ফোনটি কেটে দেন।
এ ব্যাপারে পরিচালক প্রশাসন ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা আমার জানা নাই। যদি ঘটে বা এরকম ঘৃর্ণিত কাজে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
