হাওরে ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের মাথায় হাত
আট কিয়ার (তিন কেয়ারে এক একর) জমিন (জমি) করছি, কয়েকজন মিইল্লা (মিলে) রংপুর থাকি (থেকে) মেশিন (কম্বাইন্ড হারভেস্টার) আনতাম (আনার) চেষ্টা করছিলাম। কালকে রাতেও (সোমবার রাতে) কথা অইছে (হয়েছে) আইজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে আর ফোন ধরছে না (ধরের না) হারভেস্টারের মালিক। ধান পাকিগেছে (পেকেছে), দাওয়ালও (ধান কাটা শ্রমিক বা ভাগালু) পায়রাম না, কোন সুবিধা করতাম পাররাম না, মেশিনের জন্য হন্যে হয়ে ঘুররাম (ঘুরছি), মেশিনও পায়রাম না (পাচ্ছি না)।
সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত উপজেলা শাল্লার ভাণ্ডাবিল হাওরপাড়ের হবিবপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নিতিশ পুরকায়স্থ মঙ্গলবার দুপুরে ধান কাটার শ্রমিক সংকটের বর্ণনা নিজেরমতো করে বলছিলেন এই প্রতিবেদককে।
নিতিশের পাশে দাঁড়ানো হবিবপুর নোয়াগাঁওয়ের প্রসূন কান্তি দাস জানালেন, তিনি এক চার একর জমি চাষা করেছেন। এক একরের ধানও কাটতে পারেননি। বড় হারভেস্টার মেশিনের জন্য মঙ্গলবার আনন্দপুর এসেছিলেন। এখানেও মেশিন পাননি।
আনন্দপুরের কৃষক রাধেশ দাস বলেন, ‘ধান কাটানোর কোনো উপায় নাই। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন কাগজে অনেক আছে, বাস্তবে নেই।
শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বড় কৃষক আব্দুস ছাত্তার বললেন, আমি ৯০ কেয়ার (৩০ একর) জমি চাষাবাদ করেছি। এখন ধান কাটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। উপজেলা কৃষি অফিস কম্বাইন্ড হারভেস্টার আরও বরাদ্দ দেবার জন্য উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু মেশিন পাওয়া যায় নি। আবহাওয়া খারাপ করলে মানুষ বিপদে পড়বে বলে মন্তব্য করেন এই জনপ্রতিনিধি।
কৃষি ব্লক সুপার ভাইজার বললেন, কাগজে-কলমে তার ব্লকে পাঁচটি হারভেস্টার রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তিনটিই নষ্ট। একটি কাজ করলেও এই মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। তবে অন্য জেলা থেকে কম্বাইন্ড হারভেস্টার আসতে শুরু হয়েছে বলে দাবি করলেন তিনি।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার জানান, ‘সত্যি বিষয় হলো কাগজ পত্রে শাল্লায় ৪৯ টি বড় হারভেস্টার মেশিন রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। তবে বাইরে থেকে মেশিন আসছে খুব শিগগির।’
