কাগজের ঘুড়ি আটকে দিল মেট্টোরেল
কাগজ অথবা পলিথিনের একটি ঘুড়ি আটকে দিয়েছে ঢাকার মেট্টোরেল। আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) বুধবার দুপুরে কাজীপাড়ায় মেট্রোরেলের তারের উপর একটি উড়ান্ত ঘুড়ি এসে পড়ে। এর ফলে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘুড়িটি সরিয়ে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
আমরা সাধারণ মানুষ জানি রেল গাড়ির শক্তি অনেক বেশী। রেলের সামনে ট্রাক, বাস বা যে কোন যানবাহন পড়ুক না কেন তা ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে রেল তার গন্তব্যে ছোটে। কিন্তু মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। জায়গা মতো সামান্য একটি কাগজ বা কাপড় পড়লেই মেট্টোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মেট্রোরেল কেন এতটা স্পর্শকাতর। সে সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার মেট্রোরেল পুরোপুরি বিদ্যুৎ–চালিত। ঝুলন্ত তারের সঙ্গে ট্রেনের সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন হয়। এই ব্যবস্থায় ফানুস, ঘুড়ি, কাপড় কিংবা এ–জাতীয় বস্তু আটকে গেলে বিদ্যুৎ পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়, যা থেকে মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, মেট্রোরেলের লাইনের দুই পাশে খুঁটি দিয়ে তার টানিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাকে বলা হয় ক্যাটিনারি সিস্টেম। এই তার থেকে ট্রেনে বিদ্যুৎ নেওয়া হয় প্যান্টুগ্রাফ নামের একটি যন্ত্রের মাধ্যমে। প্রতিটি ট্রেনে চারটি করে প্যান্টুগ্রাফ রয়েছে।
ডিএমটিসিএলের একজন কর্মকর্তা জানান, মেট্রোরেল লাইনে আশপাশের বাড়ির ছাদ থেকে বাতাসে উড়ে আসা কাপড়ও তারে আটকে মেট্টোরেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গত (২০২৩) বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি একইভাবে ঘুড়ির কারণে কিছুক্ষণ মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। সে সময় সিঙ্গেল লাইনে চলানো হয় মেট্রোরেল।
মেট্টোরেল চলাচলের আগে এই রেল লাইনের দুই পাশের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ঘুড়ি, ফানুস, গ্যাস বেলুন বা এ ধরনের কিছু ওড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায় কর্তৃপক্ষ। তখন এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করতে মাইকিংও করা হয়। এ সময় এটাও ঘোষণা করা হয় যে, মেট্টোরেলের আশে পাশের ছাদে কাপড় শুকাতে দিলে শক্ত করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিবেন।
